
ডেস্ক রিপোর্ট:
নওগাঁর ধামইরহাটে পাঁচ বছরের এক শিশুকে বাড়ির বাইরে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক নারী, তাঁর ছেলে ও স্বামীর বিরুদ্ধে। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রূপনারায়নপুর শল্পীবাজার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি ঘুম থেকে উঠে ভয় পেয়ে মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠছে।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার রূনারায়নপুর শল্পীবাজার গ্রামের সোবহানের শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্ত্রী তহুরা বেগম ও তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে মাশরাফী বাড়িতে ছিলো। এ সময় প্রতিবেশী সাইদুলের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম শিশু মাশরাফীকে তার বাড়ি থেকে টেনে-হেঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে শিশুটিকে মারধর করে। পরদিন রোববার শিশুটিকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা বা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী এক হাতে একটি ছোট্ট শিশু ধরে অন্য হাতে লাঠি নিয়ে বারবার মারার জন্য উদ্ধত হন। আবার মাঝে শিশুটির দুই হাত দুই দিকে প্রসারিত করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি ছাড়া পাওয়ার জন্য আর্তনাদ করতে থাকে। আশপাশে অনেককেই সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। কিন্তু শিশুটিকে উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে যাননি।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাশরাফির বাবা সোবহান বাদী হয়ে প্রতিবেশি মঞ্জুয়ারা (৪২), তাঁর স্বামী সাইদুল (৫০) ও ছেলে মিনহাজের (২০) বিরুদ্ধে ধামইরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী মাশরাফির বাবা সোবহান বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে তাঁর ছেলে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। ঘুম থেকে উঠলেই আঁতকে উঠছে। কান্নাকাটি করছে। আমার অবলা শিশুকে নির্যাতনের বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাইদুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ সঠিক হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’