
পটুয়াখালী সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার উত্তর মুরাদিয়া গ্রামে একাধিক বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং কৌশলে দেনমোহর ও অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারী ও তার মায়ের বিরুদ্ধে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত নারী মোসাঃ লিমা বেগম (৩২) ওই গ্রামের সেলিম মৃধা ও মাহিনুর বেগমের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, লিমা ও তার মা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মতো কাজ করেন। প্রথমে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে বিয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে কিছু দিন পর বিচ্ছেদ ঘটানো হয়। এরপর অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান এবং কিছুদিন পর পুনরায় নতুন বিয়ে করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত লিমার প্রথম বিয়ে হয় রাঙ্গাবালীতে, দ্বিতীয় বিয়ে বরগুনায় এবং তৃতীয় বিয়ে বাউফল উপজেলার কারখানা গ্রামে। পরবর্তীতে দুমকির মুরাদিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক রাখার পর একই গ্রামের অপর এক ব্যক্তিকে তিনি বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তার সর্বশেষ বিচ্ছেদ ঘটে বলে জানা গেছে।
লিমার পঞ্চম স্বামী মোঃ কবির হোসেন জানান, সংসারে থাকাকালীন লিমা গোপনে পাঁচটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করতেন। আইডিগুলো হলো—'লিমা আক্তার', 'জান্নাতুল ইসলাম', 'জান্নাত জাহান', 'একার গল্প' এবং 'জান্নাতুল ইসলাম (লিমা)'। এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি দিয়ে তিনি বিভিন্ন মানুষকে প্ররোচিত ও বিভ্রান্ত করতেন।
অভিযোগের বিষয়ে কবির হোসেন বলেন, "সম্প্রতি আমার বোনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে লিমা ঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।" ঘটনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১৩৬) করা হয়েছে।
এছাড়া পটুয়াখালী আদালতে সিআর ৮৯৭ এবং এমপি ৫৭৫ নম্বরে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত লিমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগ ও জিডির বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।