
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) উপজেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুমিরা এলাকায় প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক হযরত ডাল চাল মিয়া (রহ.)-এর পবিত্র ওরস শরীফ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শ্রদ্ধা ও ভক্তির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। মহান ৬ মে, ২৩ বৈশাখ উপলক্ষে বড় কুমিরাস্থ মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে দেশ-বিদেশ থেকে আগত হাজারো ভক্ত, আশেকান, মুরিদান ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ওরস উপলক্ষে সকাল থেকেই মাজার এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়। ভক্তরা মাজার জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, কোরআন খতম, জিকির-আযকার ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। দিনব্যাপী তবারক বিতরণ এবং ধর্মীয় নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এদিকে পবিত্র ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে বড় কুমিরা এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মেলায় বিভিন্ন ধরনের খেলনা, মাটির তৈজসপত্র, গৃহস্থালি সামগ্রী, পোশাক, অলংকার, মিষ্টান্ন ও স্থানীয় খাবারের দোকান বসেছে। শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে মেলায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ওরসকে কেন্দ্র করে বেচাকেনা জমে উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের খেলনা, বিভিন্ন খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসছেন।
হযরত ডাল চাল মিয়া (রহ.)-এর প্রকৃত নাম শাহ্ সূফী সৈয়দ কমর আলী শাহ বা করম আলী শাহ (রহ.)। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত ওলি ও আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে সুপরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার শাহ সুজা আরাকানের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে তাঁর বিশাল সফরসঙ্গী দলকে সামান্য ডাল ও চাল রান্না করে আপ্যায়ন করেছিলেন তিনি। অলৌকিক এ ঘটনার পর থেকেই তিনি “ডাল চাল মিয়া” নামে পরিচিতি লাভ করেন।
ধারণা করা হয়, প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ বছর আগে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি আরব বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে চট্টগ্রামে আগমন করেন। সীতাকুণ্ডের কুমিরা পাহাড়ের নির্জন পরিবেশে তিনি ইবাদত-বন্দেগি ও আধ্যাত্মিক সাধনায় সময় অতিবাহিত করতেন। তাঁর জীবন ও কর্মকে ঘিরে নানা অলৌকিক কাহিনী আজও স্থানীয়দের মাঝে প্রচলিত রয়েছে।
বর্তমানে বড় কুমিরা এলাকায় অবস্থিত তাঁর মাজার শরীফ দেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এখানে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আসেন। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মাজার শরীফে মানত করলে অনেকের আশা পূরণ হয়।
ওরস ও মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।