
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদরের উত্তর দিকে মেদির হাওর লঙ্গন নদীর পাড় থেকে শুরু করে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সীমানায় গিয়ে শেষ হয়েছে।
যেখানে শুষ্ক মৌসুমে থাকে সবুজ আর সোনালি রঙের খেলা। এ হাওরে প্রচুর ধান ফলে। বর্ষাকালে মাইলের পর মাইল শুধু পানি দেখা যায়। সে এক অপরূপ দৃশ্য।
নাসিরনগর ডাকবাংলোর অদূরে হাওরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা পুরনো দোল মন্দিরের ওপর জন্ম নেওয়া অশ্বত্থ গাছটি ইতোমধ্যেই দেশে-বিদেশে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বর্ষাকালে দোল মন্দির-অশ্বত্থ দেখে কোনো পর্যটকই মুগ্ধ না হয়ে পারে না।নাসিরনগর উপজেলা সদরে লংগন নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নাসিরনগর ডাকবাংলো একটি চমৎকার ও মনোরম দর্শনীয় স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে স্থানীয় দর্শনার্থী ও পর্যটকদের বেশ ভিড় জমে।
শান্ত ও স্নিগ্ধ লঙ্গন নদীর পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রাকৃতিক নির্মল বাতাস ও চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ডাকবাংলোর আঙিনায় বসার জন্য ও হাঁটার দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা পরিবার বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য আদর্শ।
নদীপাড়ের ঘাট থেকে নৌভ্রমণের পাশাপাশি বিকেলে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় জমান। এই হাওরে সমুদ্রের বেলাভূমি না থাকলেও সৌন্দর্যের দিক থেকে এটি অতুলনীয়। এজন্যই অনেকে একে মিনি কক্সবাজারও বলে থাকে। হাওরের দিগন্ত জোড়া থৈ থৈ পানি আর মেঘের লুকোচুরি খেলায় বর্ষার বিকেলটা আমার কাছে মোহময় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে নাসিরনগর উত্তরের লঙ্গণ নদীর পাড় পর্যটন কেন্দ্র শুধু নাসিরনগর নয়, দেশের অন্যতম নদীকেন্দ্রিক পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন আধুনিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ।
দর্শনার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ডাক বাংলা ও লঙ্ঘন নদীর এই প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। সূর্যাস্তের দৃশ্য মন কেড়ে নেয়।’ আরেক দর্শনার্থী ইসরাত জাহান বলেন, ‘এত সুন্দর খোলামেলা জায়গা আশপাশে খুব কমই আছে। তবে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন দরকার।’
ঈদ তথা বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে এখানে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বসার স্থান, সোলার লাইট, পার্কিং ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরের সুদৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসী।