
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় জনপ্রিয় ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ “কুমিরা স্কোয়াড”-এর উদ্যোগে পহেলা বৈশাখের দিন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয় গ্রুপের আজীবন সদস্য মরহুম হুসাইন বিন আরিফ এবং সদস্যদের অত্যন্ত স্নেহের ‘ইরা’-র স্মৃতির প্রতি, যা পুরো অনুষ্ঠানে এনে দেয় এক আবেগঘন আবহ।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেয় দুইটি দল—“হুসাইন বিন আরিফ একাদশ” ও “ইরা একাদশ”। মূলত এই দুইজনের স্মৃতিকে ঘিরেই আয়োজনটি সাজানো হয়। মরহুম হুসাইন বিন আরিফ ছিলেন কুমিরা স্কোয়াডের একজন নিবেদিতপ্রাণ, কর্মঠ ও আজীবন সদস্য, যার অবদান সদস্যদের মাঝে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। অন্যদিকে ‘ইরা’ ছিলেন গ্রুপের সবার আদরের, স্নেহের ও ভালোবাসার মানুষ, যিনি গত মাসে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। দুই দলে বিভক্ত হয়ে খেলায় অংশগ্রহণ করেন গ্রুপের সদস্যরা। শুরু থেকেই খেলাটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। মাঠে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, দর্শকদের উল্লাস এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য পুরো পরিবেশকে রূপ দেয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। খেলাটি শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং ছিল ভালোবাসা, স্মৃতি ও বন্ধুত্বের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা পর্ব। এতে অংশগ্রহণকারীরা মরহুম হুসাইন বিন আরিফ ও ‘ইরা’-র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। অনেকেই স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন, যেখানে উঠে আসে তাদের সাথে কাটানো নানা মুহূর্ত, হাসি-কান্না ও বন্ধুত্বের গল্প।
অনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণ ছিল একসঙ্গে বসে খাবার গ্রহণ। অংশগ্রহণকারীদের জন্য খিচুড়িসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যা সবাইকে একসাথে মিলিত হওয়ার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
আয়োজকরা জানান, পহেলা বৈশাখের মতো আনন্দঘন দিনে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা, বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং প্রয়াত প্রিয়জনদের স্মৃতিকে সম্মানের সাথে স্মরণ করা। তারা ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়।