
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রবেশপথ এখন যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দেড় শতাধিক রোগী ও সেবাগ্রহীতার আগমনে মুখরিত এ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রবেশের মুখেই নাক চেপে ধরতে হচ্ছে দুর্গন্ধে। পচা আবর্জনার স্তূপ যেন সেবার পরিবর্তে দিচ্ছে চরম ভোগান্তির অভিজ্ঞতা।
গত ২০ এপ্রিল ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এই অব্যবস্থাপনাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সেদিন সেবা নিতে আসা ৭-৮ বছরের এক শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেটে ঢোকার সময় মায়ের আঁচল টেনে বলে ওঠে, “আম্মু, নাক চেপে ধরো- গন্ধ।” শিশুর সরল এই মন্তব্যে উপস্থিত অনেকেই বিব্রত ও লজ্জিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির মায়ের মুখে ছিল অস্বস্তি আর অসহায়তার ছাপ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই নোংরা পরিবেশ দূর করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা একাধিকবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে গেট পরিষ্কার করিয়েছেন। এমনকি রোগী সেবার পাশাপাশি নিজেরাই ঝাড়ু হাতে নিয়ে পরিবেশ পরিষ্কারে নেমেছেন। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান দিতে পারছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে পরিষ্কার করা হলেও রাত হলেই পাশের বাজার ও দোকান থেকে ময়লা এনে এখানে ফেলা হয়। ফলে প্রতিদিন সকালে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। একশ্রেণির মানুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রবেশপথকে ‘পাবলিক ডাস্টবিন’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, কুমিরার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। অথচ এর প্রবেশপথের এমন নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দোকানের সামনে নিজস্ব ডাস্টবিন স্থাপন এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে কুমিরার বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু কর্তৃপক্ষের নয়, বরং পুরো সমাজের দায়িত্ব—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।