
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
দীর্ঘদিনের তীব্র দাবদাহের অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামে নেমেছে বহুল প্রতীক্ষিত বৃষ্টি। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া বজ্রসহ মুষলধারে বৃষ্টি জনজীবনে শীতলতা আনলেও, তা রূপ নিয়েছে চরম দুর্ভোগে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরে মাত্র ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অল্প সময়ের এই বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো।
প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, চকবাজার কাপাসগোলা, কাঁচাবাজার, কাতালগঞ্জ ও রহমতগঞ্জ। অধিকাংশ সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমতে দেখা গেছে।
বৃষ্টির তীব্রতা ও জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে পথচারীদের অনেককেই দীর্ঘক্ষণ রাস্তার পাশের দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকতে হয়।
চরম ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দুপুর ১টার দিকে বৃষ্টি থামলে দুর্ভোগ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে আজ এসএসসি পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা যখন বাড়ি ফিরছিল, তখনই তারা জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে। গণপরিবহনের সংকট ও রিকশার অভাবে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী এক পথচারী জানান"আমি ভাইকে সেন্টার থেকে আনতে গিয়ে প্রবর্তক মোড়ে আটকে গেছি। এখানে কোমর সমান পানি, কোনো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। ভাইও হলের সামনে আটকা পড়ে আছে।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম নগরে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনাই এর জন্য দায়ী। আরেকজন পথচারী জানান, প্রবর্তক মোড় এলাকায় খাল ও নালায় বাঁধ দিয়ে সংস্কার কাজ চললেও বিকল্প পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখা হয়নি, ফলে বৃষ্টির পানি সরাসরি সড়কে চলে আসছে।
প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি ফিরলেও, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বন্দরনগরীর বাসিন্দাদের কাছে এই বৃষ্টি এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।