
সীতাকুণ্ড(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র গুলিয়াখালী সী বিচে দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জন পর্যটক বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পর্যটন এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুলিয়াখালী সী বিচ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পর্যটকেরা সাগরপাড়ের সৌন্দর্য উপভোগে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় একটি দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিচ এলাকায় স্থাপিত একটি দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে স্থানীয় কিছু যুবকের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রথমে বিষয়টি সামান্য কথাকাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৮ জন পর্যটক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র। কয়েকজন গুরুতরভাবে আহত হওয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটন এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আসলেও অনেক সময় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মত দেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এদিকে ঘটনার পর গুলিয়াখালী সী বিচ এলাকায় কিছু সময়ের জন্য থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে এ ঘটনায় পর্যটকদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।