
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দায়িত্ব পালনরত এক রেলগেইট কর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্ব পালনের সময় হামলার শিকার হওয়ার পর জিআরপি পুলিশের উপস্থিতিতেই ওই কর্মী পুনরায় লাঞ্ছিত হলেও তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে সীতাকুণ্ড কলেজ রোড সংলগ্ন রেলগেইটে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ওই সময় ৬০৮ নম্বর একটি মালবাহী ট্রেন সীতাকুণ্ড স্টেশন অতিক্রম করছিল। রেলওয়ের প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি অনুসারে ট্রেন চলাচলের সময় গেইট বন্ধ রাখা হয়, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
সীতাকুণ্ড সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আতিকুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ১০ মিনিটের জন্য গেইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ তোলেন, গেইটটি প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক ডিউটিরত গেইটম্যান ফারুকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি জিআরপি পুলিশকে জানানো হলে ভুক্তভোগী গেইটম্যান, সহকারী স্টেশন মাস্টার ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে জিআরপি স্টেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাটিকে “ভুল বোঝাবুঝি” হিসেবে মীমাংসার চেষ্টা চলছিল।
তবে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়, যখন অভিযোগ রয়েছে—অভিযুক্তদের একজন জিআরপি পুলিশের সামনেই পুনরায় গেইটম্যান ফারুকের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং হাত তোলে। এ ঘটনায় উপস্থিত রেল কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে সহকারী স্টেশন মাস্টার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
ভুক্তভোগী গেইটম্যান ফারুক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করছি। ট্রেন চলাচলের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে গেইট বন্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু কিছু লোক এসে আমার ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশের সামনেই আবারও লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। একজন সরকারি কর্মচারী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি নিরাপত্তা না পান, তাহলে বিষয়টি উদ্বেগজনক।”
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড জিআরপি পুলিশ স্টেশনের এসআই দিপক বলেন, “মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। দায়িত্ব পালনকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।