
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরা এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ মছজিদ্দা সার্বজনীন কালী মন্দির প্রাঙ্গণে ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় আয়োজন। ভক্তি, আনন্দ, আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় আবেগে ভরপুর এই আয়োজন ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর ও হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশ।
পূজার শুরু থেকেই মায়ের আরাধনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মন্দির এলাকা। ধূপ-ধুনোর সুগন্ধ, শত শত প্রদীপের আলোকছটা, শঙ্খধ্বনি ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। মন্দির প্রাঙ্গণের প্রতিটি কোণ যেন ভক্তির আবেশে হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
মায়ের চরণে প্রার্থনা জানাতে সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য ভক্তবৃন্দ। পূজাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় নামসংকীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ এবং ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান। প্রতিটি আয়োজনে ছিল ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও গভীর ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ব্যান্ড Pranam/প্রণাম - Romareo Sutradhar-এর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে ভিন্নমাত্রার আবেগ সৃষ্টি করে। ভক্তিমূলক সংগীতের সুরে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
এদিকে বর্ণিল আলোকসজ্জা, দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ যেন রূপ নেয় এক নান্দনিক মিলনমেলায়। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি হয়ে ওঠে ভক্তদের মিলন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রীযুক্ত বাবু বরণ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শ্রীযুক্ত বাবু রাজু চৌধুরী জানান, মায়ের অশেষ আশীর্বাদ, ভক্তদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পূজার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
ভক্তদের বিশ্বাস, ফলহারিণী অমাবস্যার এই পবিত্র আয়োজন সবার জীবনে বয়ে আনবে শান্তি, মঙ্গল ও আশীর্বাদের বার্তা।