
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের মধ্যম কাজীপাড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে দেশীয় প্রজাতির গরু নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী একটি খামার— ইয়াং এগ্রো ফার্ম। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই খামারটি বর্তমানে গরু পালন ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে।
ইয়াং এগ্রো ফার্মের উদ্যোক্তা শাহাদাত হোসেন বাপ্পি, যিনি দীর্ঘ পরিশ্রম, ধৈর্য ও পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি ছোট উদ্যোগকে বড় পরিসরে নিয়ে গেছেন। তার এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে সীতাকুণ্ড উপজেলার সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচিত হন তিনি।
জানা যায়, ২০১৫ সালে অল্প পরিসরে গরু পালন শুরু করেন শাহাদাত হোসেন বাপ্পি। শুরুতে সীমিত সংখ্যক গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের ব্যবধানে তার খামারটি এখন বড় পরিসরে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে ইয়াং এগ্রো ফার্মে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি দেশীয় প্রজাতির গরু পালন করা হয়।
খামারটির পরিচালক সোহরাব হোসেন জানান, এখানে গরুগুলোকে প্রাকৃতিক পরিবেশে লালন-পালন করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা নিজ হাতে প্রাকৃতিক ঘাস সংগ্রহ করে গরুগুলোকে খাওয়াই। কৃত্রিমতার চেয়ে প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে গরুগুলো সুস্থ ও স্বাস্থ্যবানভাবে বেড়ে ওঠে।”
তিনি আরও জানান, খামারে গরুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। ফলে এখানকার গরু মানসম্মতভাবে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি বাজারেও ভালো সাড়া পাচ্ছে।
উদ্যোক্তা শাহাদাত হোসেন বাপ্পি বলেন, “ছোট পরিসর থেকে শুরু করেছিলাম। অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু ধৈর্য আর পরিশ্রমের কারণে আজ এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। ভবিষ্যতে খামার আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, ইয়াং এগ্রো ফার্ম শুধু একটি খামার নয়, বরং এটি এলাকার তরুণদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার নাম। অনেকেই এখন গবাদিপশু পালন ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে আগ্রহী হচ্ছেন।
দেশীয় গরু, প্রাকৃতিক খাদ্য ও যত্নশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের ইয়াং এগ্রো ফার্ম এখন এলাকায় সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।