
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
একটি সন্তানের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের বুক ভেঙে দেয় না, কাঁদায় পুরো সমাজকে। নিষ্পাপ দুটি নাম—ইরা ও রামিসা। যারা একসময় পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের আলো ছিল, আজ তারা শুধুই স্মৃতি। তাদের হারানোর বেদনা এখনো তাড়া করে ফিরছে পরিবারকে, আর সেই বেদনার ভার নিয়েই সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সীতাকুণ্ডে আবেগঘন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানবিক ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ, সীতাকুণ্ড থানা কমিটি এবং রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ আমরা পরিবার-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় সচেতন নাগরিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। মানববন্ধনটি যেন শুধুই একটি প্রতিবাদ ছিল না, ছিল দুটি নিষ্পাপ প্রাণ হারানোর শোক, ক্ষোভ আর বিচার পাওয়ার আকুতি।
মানববন্ধনে উপস্থিত মানুষের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড—
“ইরা-রামিসা হত্যার বিচার চাই”, “আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক না”, “শিশু হত্যার বিচার নিশ্চিত কর”, “বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হোক”— এমন নানা দাবিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
অনেকের চোখে ছিল জল, কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ আর মনে ছিল একটাই প্রশ্ন—
“কেন বারবার আমাদের সন্তানরাই নিষ্ঠুরতার শিকার হবে?”
মানববন্ধনে বক্তারা আবেগঘন বক্তব্যে বলেন,
“আজ ইরা ও রামিসা, কাল হয়তো অন্য কারো সন্তান। আমরা যদি আজ নীরব থাকি, তাহলে আগামী দিনে আরও কোনো পরিবারকে হয়তো এভাবেই সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে হবে। একটি শিশুর কান্না, একটি মায়ের আহাজারি কখনোই শুধু একটি পরিবারের বিষয় নয়, এটি পুরো সমাজের ব্যর্থতা।”
তারা আরও বলেন, সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কিন্তু অনেক ঘটনায় বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যাওয়ায় অপরাধীরা সাহস পাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে। বক্তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন,
“ইরা ও রামিসা শুধুই দুটি নাম নয়। তারা ছিল দুটি পরিবারের হাসি, দুটি মায়ের স্বপ্ন, দুটি ঘরের প্রাণ। আজ তারা নেই, কিন্তু তাদের জন্য স্বজনদের চোখের জল এখনো শুকায়নি। এই বিচার শুধু দুটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।”
একজন অভিভাবক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“আজ যারা সন্তান হারিয়েছে, তারা জানে বুকের ভেতর কেমন আগুন জ্বলে। আমরা চাই না আর কোনো মা তার সন্তানের রক্তমাখা স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকুক।”
মানববন্ধন থেকে বক্তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে অপরাধ থামবে না। শিশু ও নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
শেষে উপস্থিত সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় একটাই দাবি—
“ইরা-রামিসার হত্যার দ্রুত বিচার চাই”
“আর কোনো মায়ের বুক যেন সন্তানের শোকে খালি না হয়”
মানববন্ধন শেষে নিহত ইরা ও রামিসার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়। তাদের স্বজনদের চোখের জল যেন উপস্থিত সবার হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যায়—এমন এক শোকাবহ পরিবেশে শেষ হয় কর্মসূচি।