
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইসলামী ব্যাংক -কে “লুটপাট, অনিয়ম ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার” দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। রোববার সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্যাংকের গ্রাহক, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকটিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, “ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়, এটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লাখো মানুষের আমানত, ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই যারা ব্যাংকটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এসময় বক্তারা এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল ইসলাম মাসুদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জনগণের অর্থ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জুবায়দুর রহমান ও এএমডি কামাল উদ্দীন জসীমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “ইসলামী ব্যাংককে আবারও অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে সাধারণ গ্রাহক ও সচেতন মহল আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে।”
এসময় ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়। বক্তাদের ভাষ্য, ব্যাংকটির সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই ব্যাংকটিকে ঘিরে যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।