
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বসতবাড়ি, সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন। একদিকে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ, অন্যদিকে পানি চলাচলের পথে অবৈধ প্রতিবন্ধকতা অপসারণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে একযোগে কাজ করছে প্রশাসন।
শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলার কুমিরা, ভাটিয়ারী ও সলিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখা বাঁধা অপসারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইউএনওর উপস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যেই জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে পানিবন্দি থাকা বহু পরিবার স্বস্তি ফিরে পায় এবং এলাকাবাসী প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পানি নামতে শুরু করায় মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমেছে। তারা ভবিষ্যতে যাতে কেউ অবৈধভাবে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারির দাবি জানান।
খাদ্য বিতরণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, "এই দুর্যোগে উপজেলা প্রশাসন সব সময় জনগণের পাশে রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। একই সঙ্গে পানিবন্দি মানুষের জন্য শুকনো ও রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সীতাকুণ্ডে কোনো মানুষ যেন অনাহারে না থাকেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।"
তিনি আরও বলেন, "দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিত্তবানদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মানবিক সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, জরুরি প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের বিভিন্ন টিম মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জরুরি তৎপরতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে টানা বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের সময় সাধারণ মানুষকে একই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।