
সীতাকুণ্ড(চট্টগ্রাম) সংবাদদাত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পাঁচটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টায় সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের মছজিদ্দা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ত্রাণবাহী গাড়ির যাত্রা শুরু হয়। প্রায় ৫০০ পরিবারের জন্য প্রস্তুত করা রান্না করা খাবার নিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা বাঁশখালী উপজেলার বাহাড়ছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাপাছড়ি এলাকায় পৌঁছে বন্যার্ত মানুষের হাতে তা তুলে দেন।
এই মানবিক উদ্যোগে অংশ নেয় কুমিরা স্কোয়াড, কাজীপাড়া যুব সংঘ, উদ্দীপ্ত কাফেলা, উদয়ন যুব সংঘ এবং হিঙ্গুরীপাড়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেন দৈনিক বরেন্দ্রকণ্ঠ সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি মো. রমিজ আলী। মানবিক এই উদ্যোগে তিনি স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণে সহযোগিতা করেন এবং সার্বিক কার্যক্রমে অংশ নেন।
ত্রাণ বিতরণের সময় স্বেচ্ছাসেবীরা সরেজমিনে দেখতে পান, বন্যার পানিতে গ্রামের অধিকাংশ মাটির ঘর তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবারের ঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। বসতঘর, রান্নাঘর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকের রান্নার সুযোগ না থাকায় একবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ায় বন্যার্তদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, মানবতার সেবাই তাদের মূল লক্ষ্য। দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলে তারা মনে করেন। নিজেদের সামর্থ্য ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়রা বলেন, সংকটময় সময়ে স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগ শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, দুর্গত মানুষের মনে সাহস ও আশার সঞ্চার করেছে। সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এভাবে এগিয়ে এলে বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।