
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১ নম্বর থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তিন দিন ইউনিয়নের নির্ধারিত উপকারভোগীদের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়।
সাম্প্রতিক অতিভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক দিনমজুর, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাদ্য সংকটে পড়লেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগেই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করায় তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিতরণ কার্যক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের পরিচয় যাচাই করে পর্যায়ক্রমে চাল দেওয়া হয়। পুরো কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয় এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়। এতে উপকারভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
চাল নিতে আসা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক নারী বলেন, "টানা বৃষ্টির কারণে আমার স্বামী কয়েকদিন কাজে যেতে পারেননি। ঘরে খাবারের চিন্তা ছিল। সরকারের এই চাল পেয়ে এখন কয়েকদিন অন্তত পরিবারের খাবারের কষ্ট থাকবে না।"
৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক দিনমজুর বলেন, "বৃষ্টি হলে কাজ থাকে না, আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। এই চাল আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অনেক বড় সহায়তা।"
একজন প্রবীণ উপকারভোগী বলেন, "সময়ের আগে চাল বিতরণ করায় আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি। দুর্যোগের সময়ে সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তারা ভবিষ্যতেও প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে স্বচ্ছতা বজায় রেখে এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকারের এমন সময়োপযোগী উদ্যোগ শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, মানবিক দায়িত্ববোধেরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কুমিরা ইউনিয়নে সুষ্ঠুভাবে খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ সেই ইতিবাচক বার্তাই বহন করছে।