
চট্টগ্রাম (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট, চট্টগ্রামের উদ্যোগে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক দিলশাদ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ ঈসা চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব ও পেশাজীবী নেতা রফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম মহাসচিব, কবি ও অভিনেতা এবিএম সোহেল রশিদ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. খুরশিদ জামিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আটটি পরিবারের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, "২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।"
প্রধান বক্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, "সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা ও জাতীয় চেতনা রক্ষায় যেকোনো মূল্যে এ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে জোটের শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল মো. শাহ আলমগীর, বিএনপি নেতা গাজী সিরাজ, ডা. জুবায়ের আল মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, কবি ফারুক জাহাঙ্গীর, পরিবেশবিদ মোহাম্মদ আলী শাহীন, তৌহিদুল ইসলাম রানা, ফৌজিয়া শারমিন সম্পা, ডা. হারুন, নাদিয়া তাসনিম নিপা, সাইমন, শিহাব রিয়াদ, জুলফিকার আহমেদ, রিয়াদ মাহমুদ, আশরাফুল ইসলাম টিটু, ইলিয়াস ইলু, এসআই জুয়েল, মোহাম্মদ ফোরকান, ডা. রাইহান, মাসুদ আহম্মেদ রানা, মোহাম্মদ সাঈদসহ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর চেতনা পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।