
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন মাছের আড়তে অভিযান চালিয়ে ইলিশ মজুদের দায়ে দুই আড়তদারকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই দিন কুমিরা উপকূলসংলগ্ন সন্দ্বীপ চ্যানেলে মৎস্য দপ্তর ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে প্রায় এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ জাল এবং ২০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
জব্দ করা নিষিদ্ধ জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। পরে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার করা ইলিশ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
মাছের আড়তে অভিযান, দুই আড়তদারকে জরিমানা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন মাছের আড়তে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইলিশ মজুদের দায়ে দুই আড়তদারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রির মতো কার্যক্রম মাছের প্রজনন সুরক্ষার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বাজার, মাছের আড়ত ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সন্দ্বীপ চ্যানেলে যৌথ অভিযান, জব্দ এক লাখ মিটার জাল
আড়তে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কুমিরা উপকূলসংলগ্ন সন্দ্বীপ চ্যানেলে মৎস্য দপ্তর ও কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে প্রায় এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। এ ছাড়া জব্দ করা হয় ২০ কেজি ইলিশ মাছ।
জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। পরে নিষিদ্ধ জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অন্যদিকে, জব্দ করা ইলিশ মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
উপকূলীয় এলাকায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নির্বিঘ্ন চলাচল ও ডিম ছাড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মা ইলিশ রক্ষায় নজরদারি জোরদারের দাবি
সীতাকুণ্ডের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা ও সন্দ্বীপ চ্যানেল ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মা ইলিশ রক্ষায় শুধু অভিযান ও জরিমানা নয়, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবারের অভিযানে দুই আড়তদারকে জরিমানা, বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও ধ্বংস এবং ইলিশ মাছ বিতরণের মধ্য দিয়ে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে উপকূলীয় এলাকায় মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখা জরুরি।