
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার করে সহযোগীদের মাধ্যমে চাঁদা দাবির অভিযোগে জয়নাল আবেদীন নামে এক কর্মচারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। পরে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হলে পুলিশ তাঁকে আদালতে পাঠায়।
মামলার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার এসএ গ্রুপে কর্মরত জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তথ্য বাইরে পাচার এবং ওই তথ্যের সূত্র ধরে সহযোগীদের মাধ্যমে কোম্পানির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে প্রতিষ্ঠানের স্টাফ অফিসার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জয়নাল আবেদীন তাঁদের প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে বাইরে সরবরাহ করতেন। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে তাঁর সহযোগীরা কোম্পানির কাছে চাঁদা দাবি করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আটক জয়নাল আবেদীনকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে চট্টগ্রাম শহর থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সীতাকুণ্ড থানায় যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে সাংবাদিক সংগঠনের নেতা পরিচয়দানকারী ব্যক্তিও ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার কয়েক দিন আগে জয়নাল আবেদীনসহ বিভিন্ন পেশার কয়েকজন ব্যক্তি ‘সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটির অভিষেক অনুষ্ঠানের কথা বলে মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের অতিথি হিসেবে উল্লেখ করে আমন্ত্রণপত্র ছাপানো হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের কথা বলে বিভিন্ন কোম্পানি, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে নির্ধারিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের কেউ উপস্থিত হননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এবং অর্থ সংগ্রহের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধ চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো প্রমাণিত হওয়া জরুরি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “এসএ গ্রুপের পক্ষ থেকে আইসিটি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা আসামিকে আদালতে পাঠিয়েছি।”
জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, কথিত সহযোগীদের ভূমিকা এবং অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, আটক জয়নাল আবেদীন সীতাকুণ্ড পৌরসভার দক্ষিণ ইদিলপুর এলাকার কানু মৌলভীর বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বাবার নাম মৃত মো. মোজাম্মেল হোসেন।