
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে লিও ক্লাব অব চিটাগং সীতাকুণ্ড। সংগঠনটির উদ্যোগে ও সি.টি মডেল স্কুলের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত ব্লাড ক্যাম্পিং ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা রয়েল গেট এলাকায় অবস্থিত সি.টি মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে এতে অংশ নেয়।
সি.টি মডেল স্কুলের এমডি রিদোয়ান মিয়ার রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে একে একে শিক্ষার্থীদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নেয়। রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের সময় তাদের মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও হাসিখুশি পরিবেশ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লিও ক্লাব অব চিটাগং সীতাকুণ্ডের অ্যাডভাইজার লায়ন মোহাম্মদ রেহান উদ্দীন, সভাপতি লিও জাহাঙ্গীর আলম বাবলু, প্রেসিডেন্ট অ্যাডভাইজার লিও ইলিয়াস সানি, সেক্রেটারি লিও মোহাম্মদ আরাফাত, ট্রেজারার লিও আবু ইব্রাহিম, জয়েন্ট ট্রেজারার লিও রায়হান রনি, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া সম্পাদক লিও আজিজুল হাকিম জুবায়ের, মেম্বারশিপ চেয়ারম্যান লিও ফাহিম মুনতাসীর, সদস্য মাহাদী হাসান ও নাঈম হোসেন। এ ছাড়া সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষী সাইফুল ইসলাম ও হাসান বিন রহিত উপস্থিত ছিলেন।
সি.টি মডেল স্কুলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান রিদোয়ান মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মামসেদ হাসান ছোটন, প্রিন্সিপাল নাসরিন নাহার, একাডেমিক ডিরেক্টর নুরুল আজম রফিক, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল, মোহাম্মদ আলীসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা।
জরুরি চিকিৎসা, দুর্ঘটনা কিংবা সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত রক্তের প্রয়োজন হলে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।
শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংশ্লিষ্টদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।