
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাজারের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে নামে-বেনামে অসংখ্য বেকারি কারখানা। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর নেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন, খাদ্যপণ্যে উল্লেখ নেই উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। কোথাও কোথাও অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশেই তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, কেক, পাউরুটিসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য। এসব অনিরাপদ খাবার কিনে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো বেকারিতে খাদ্য উৎপাদনের ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। খোলা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাদ্যপণ্য। পণ্যের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় ক্রেতারা বুঝতে পারছেন না খাবারটি কতটা নিরাপদ কিংবা কতদিন আগে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় রঙিন কেক, বিস্কুট ও বিভিন্ন বেকারি পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযান পরিচালনার পরও যদি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে কীভাবে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের দাবি, সীতাকুণ্ডের প্রতিটি বেকারি কারখানার মালিকানা, লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে হবে। খাদ্য তৈরির পরিবেশ, ব্যবহৃত উপাদান এবং প্যাকেটজাত পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করতে হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে শুধু জরিমানা নয়, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সীতাকুণ্ড মডেল থানা এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রশ্ন, মানুষের খাবার তৈরির নামে যদি স্বাস্থ্যঝুঁকি ছড়ানো হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়? শিশুদের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে আর কতদিন উদাসীনতা চলবে?
সচেতন মহলের দাবি, সাময়িক অভিযান নয়, সীতাকুণ্ডের প্রতিটি বেকারি কারখানায় নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি।