
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ
বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও সীতাকুণ্ড আসনের সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি তৃণমূল নেতাকর্মীদের ত্যাগ, ধৈর্য ও সংগ্রামের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “বড় নেতারা ভুল করতে পারেন, কিন্তু তৃণমূল কখনও বেইমানি করে না।”
শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসলাম চৌধুরী বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি আস্থা রেখেই কেন্দ্র শেষ মুহূর্তে তাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে তৃণমূলের অবদানই নেতৃত্বকে টিকিয়ে রেখেছে এবং শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “আন্দোলন করতে হলে আসলামের মতো করো”—যা তৃণমূলের প্রতি দলের আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে সাংগঠনিক দুর্বলতা একটি বড় কারণ। এসব দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সংগঠনের অভ্যন্তরে আত্মসমালোচনা, বিশ্লেষণ এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সুসংগঠিত কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
আসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতিপক্ষ দল যেভাবে সাধারণ বিষয়কেও সংগঠনের শক্তিতে রূপ দেয়, সেভাবেই বিএনপিকেও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সীতাকুণ্ডে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ সময় বহু নেতাকর্মী মামলা, হামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। ভবিষ্যতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সভায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান জসিম, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রায় ৯০টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সভায় উপজেলা যুবদলের বর্তমান কাঠামো বহাল রেখে আংশিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভাপতি ফজলুল করিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাহাবুদ্দিন রাজুকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।