
কক্সবাজার সংবাদদাতাঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁও ভাদিতলা দরগাহ পাড়ায় মারা যাওয়া নুরুল হুদা প্রকাশ লোদানের মৃত্যু নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে। পারিবারিকভাবে প্রথমে দুই ছেলে কর্তৃক নির্যাতনে ২৬ মার্চ রাতে মারা যাওয়ার কথা বলা হলেও গভীর রাতে এ সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে তারা অনেকটা সরে এসেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক বিষয় নিয়ে লোদানের সাথে তার সৌদি প্রত্যাগত বড় ছেলে ও অপর এক ছেলের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। যা হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায়।
পরে দরজার পাশে বসা অবস্থায় লোদান ঢলে পড়তে থাকে। পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এলাকার কেউ কেউ বলছেন, অতিরিক্ত রাগে তিনি স্ট্রোক করেছেন। তবে তার শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঈদগাম থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম শিফাতুল মাজদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়ে লাশ থানায় নিয়ে আসে । পারিবারিক বিরোধের কারণে লোকটির মৃত্যু ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তার নিহতের বিষয় নিয়ে ছেলেরা দ্বিধা- বিভক্ত হয়ে গেছে। তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মনোমালিন্যের কারণে পিতা ও পুত্রদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটির বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। সন্দেহ এবং রহস্য সৃষ্টি হওয়ায় লাশ নিয়ে এসে পোস্টমর্টেমের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। সমাজসেবক মাহমুদুল করিম গুন্নু জানান, ট্রিপল নাইনে অভিযোগ করা হলে পুলিশ দল নিহতের বাড়িতে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই ছেলেকে জিম্মিদশা থেকে বের করে থানায় নিয়ে যান। নিহতের বড় ছেলে একমাস পূর্বে সৌদিয়া থেকে দেশে আসেন। বসতভিটার জমি নিয়ে তার সাথে তার পিতার বেশ কিছুদিন যাবত মনোমালিন্য চলে আসছিল। এ মনোমালিন্যে অন্য এক ছেলেও জড়িত ছিল। স্থানীয় নুরুল আজিম গতকাল রাতে নিহতের স্ত্রী এবং ছোট ছেলে লোদানকে মারধর করে মেরে ফেলেছে বলে জানান। নিহতের ভাই নুরুল ইসলাম বৈদ্যও মার ধরে তার ভাইকে মেরে ফেলার বিষয়টি পারিবারিক ভাবেই জেনেছেন। তবে অভিযুক্তরা মারধরের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে যে কোন শাস্তি মেনে নেবেন বলে জানান।
পোস্টমর্টেমের পরে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসতে আরে বলে মনে করেন পুলিশ ও সচেতন মহল।
এদিকে ২৭ মার্চ বাদে মাগরিব স্থানীয় ১২ আউলিয়া জামে মসজিদ মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন অত্র মসজিদের ইমাম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।
এতে ঈদগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী সহ বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন। পরে সংলগ্ন কবরস্থানে তার দাফন অনুষ্ঠিত হয়।