
ঈদগাঁও কক্সবাজার সংবাদদাতা
রাশেদ গং কর্তৃক প্রাণনাশের হুমকি ও মামলা তুলে নেওয়ার দাবিতে ভয়- ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংদিয়ায় ১৮ মে বিকেলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভূক্তভোগী মোজাফফর আহমদের পরিবার।
স্থানীয় মসজিদ ও হাফেজ খানা প্রাঙ্গনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মোঃ ইউসুফ, ফরিদুল আলম, এহছান, জিয়াবুল হক, হেলাল উদ্দিন, জসিম, জুনাইদ, শুক্কুর, শহীদুল্লাহ, মোহাম্মদ, আব্দুর রহিম ও মিছবাহ উদ্দিন প্রমুখ।
মামলার শিকার এহছান এতে জানান, তিনি একজন প্রবাসী। গত তিন বছর পূর্বে তিনি দেশে আসেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় তিনি আর বিদেশ যেতে পারছেন না। দেশেও ঘুমাতে পারছেন না। গত ইউপি নির্বাচনেকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে এ প্রবাসী কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, রাশেদ চেয়ারম্যান (জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ নয়) ও হেলাল মেম্বারের পক্ষের লোকজনের মধ্যে যে অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল তার ধারে কাছেও তিনি ছিলেন না। অথচ এ সংক্রান্ত মামলায় তাকে সহ ২৭/২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার সহ বাদীর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক বয়োবৃদ্ধও প্রায় একই ভাষায় কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত গুরুতর আহত এক যুবক কথা বলতে চাইলেও মুখে মারাত্মক জখমের কারণে কথা বলতে পারছিলেন না। তবে আকারে- ইঙ্গিতে তিনি নির্যাতিত হওয়ার কথা বুঝানোর চেষ্টা করেছেন।
তবে সঙ্গে থাকা অপর যুবকরা জানান, হামলায় ওই যুবকের দাঁতের চোয়াল ভেঙ্গে যায়। তাই কথা বলতে পারছেন না। আর আহতের আপন ভাই জানান, যে ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা করা হয়েছে ওখানে গুরুতর আহত তার এ ভাই উপস্থিত ছিল না। দাঁতে চেইন লাগানোর কারণে পানি ছাড়া সে বর্তমানে কিছুই খেতে পারছে না। তাকে ঈদগাঁও, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে দাঁতের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ১০-১৫ দিন পূর্বে তার উপর যে বর্বর হামলা- নির্যাতন হয়েছে তার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তারপরও তাদেরকে অব্যাহত হুমকি দেয়া হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, মারামারির ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই অবহিত নন। তখন তিনি দোকানে ছিলেন। ওই সময় ছয় জন লোকও ঐ দোকানে উপস্থিত ছিলেন।
সত্য হলো, আমি রাশেদের পিতার কাছের লোক ছিলাম। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মারামারি এবং ঝগড়া-ঝাঁটি সম্পর্কে কিছুই জানি না। তিনদিন পর শুনেছি আমার নামে মামলা হয়েছে। আমি রাশেদ গণের কাছে বিষয়টি বারবার জিজ্ঞাসা করলেও তারা কোন সদুত্তর দেয়নি।
উপস্থিত ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসায়ী যুবক জানালো, তাকে মামলা দিয়ে ১০-১৫ দিন কারাগারে রাখা হয়েছে। রাশেদ গং প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। মামলার প্রতিবাদ করায় এ হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তার দাবি, আপষের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বিবাদীরা তাদেরকে প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করেই যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যের ভিন্ন কথাও শোনা গেছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।