
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ নলবিলা এলাকায় সংঘটিত আলোচিত সবুজ মিয়া হত্যা মামলায় মহেশখালী পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতা খাইর হোসেনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মামলার বাদী নিহত সবুজ মিয়ার স্ত্রী মোহছেনা বেগম (৪৭)। মহেশখালী থানায় দায়ের করা এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৬ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দক্ষিণ নলবিলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় রাস্তার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়।
এজাহার সুত্রে জানা যায়, প্রথমে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে সবুজ মিয়া এর প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে ধারালো দা, লোহার রড, খুনতি ও লাঠিসোটা দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার ঘটনায় উম্মে হাবিবা, আবদু ছাত্তার, বারেক, রায়হান ও আবদুর রাজ্জাক আহত হন।
মামলায় নজরুল ইসলাম, ইয়াছিন আরাফাত, সোহাগ, শাহাদাত কবির, আবু ছিদ্দিক, খাইর হোসেন, শারমিন আক্তার, রোকসানা আক্তার ও রবিউল আলমকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি ছোট মহেশখালী এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।প্রয়োজনে এটিকে টিভি নিউজ স্ক্রিপ্ট বা অনলাইন পোর্টালের উপযোগী সংক্ষিপ্ত সংস্করণেও সাজিয়ে দিতে পারি।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সোলতান বলেন, “ঘটনা সত্য। এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”