
খাগড়াছড়িতে মারমা শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার জেরে পুরো জেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। টানা দুই দিনের অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে জেলাজুড়ে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সহিংসতায় অন্তত তিনজন নিহত ও ১৩ সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ছাড়াও সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। সকাল থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। চলাচলকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ চলাকালে মহাজনপাড়া ও সদর উপজেলা পরিষদ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ।
খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন মো. ছাবের জানান, আহতদের মধ্যে ২১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, সহিংসতা ঠেকাতে সেনা-বিজিবি-পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন শয়ন শীল (১৯) গ্রেপ্তার হন। আদালত তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে সবাইকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।