
আব্দুল্লাহ আদনান, ঢাকা থেকে:
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এলাকা সূত্রাপুর-একসময় যেখানে ছিল জমজমাট জীবন, কোলাহল আর আভিজাত্যের ছোঁয়া। সরু গলির ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা প্রাসাদ সদৃশ বাড়িগুলো যেন অতীতের এক গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষী। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই জৌলুস আজ ম্লান, হারিয়ে গেছে রাজকীয় দিনগুলোর রঙিন গল্প।
একসময় এসব প্রাসাদ ছিল নবাবি আমলের ঐশ্বর্যের প্রতীক। সুদৃশ্য বারান্দা, কারুকাজ করা দরজা, জানালা, উচু ছাদ আর বিস্তৃত অঙ্গন-সবমিলিয়ে ছিল এক অনন্য স্থাপত্যশৈলী। সন্ধ্যা নামলেই উঠোন ভরে উঠত আলো আঁধারির খেলায়, অতিথি আপ্যায়ন, সঙ্গীত আর আনন্দের আসরে। পরিবার-পরিজনদের হাসি, কোলাহলে মুখর থাকতো প্রতিটি প্রাসাদ। কিন্তু আজ সেই প্রাসাদগুলি যেন নি:সঙ্গ। কোথাও দেওয়াল খসে পড়ছে, কোথাও বন্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ছে ধুলা আর নীরবতা। যে অঙ্গনে একসময় জমত প্রানের উত্সব, সেখানে এখন বিরাজ করে এক ধরণের শূন্যতা। নতুন প্রজন্মের অনেকেই ছেড়ে গেছে এ পুরোনো ঠিকানা। আধুনিক জীবনের খোঁজে চলে গেছে অন্যত্র।
ইতিহাসের এ নিদর্শনগুলি এখন সংরক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এগুলোই বহন করে আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর অতীতের গৌরবগাঁথা । প্রতিটি দেওয়াল, প্রতিটি অলিন্দ যেন বলতে চায় - "একসময় আমরাও ছিলাম জীবন্ত, প্রাণবন্ত।"
সূত্রাপুরের এ প্রাসাদগুলি শুধু ইট পাথরের নির্মান নয়, এগুলো আমাদের স্মৃতির ভান্ডার। সময়ের নির্মমতায় হারিয়ে যাওয়ার আগে প্রয়োজন সচেতনতা, সংরক্ষণ আর ভালোবাসা। কারন ইতিহাস একবার হারিয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না ।
আজকের নীরব সূত্রাপুর যেন অতীতের এক মর্মস্পর্শী প্রতিধ্বনি-হারানো রাজত্বের গল্প, ফুরিয়ে যাওয়া দিনের দীর্ঘশ্বাস ।