
বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজঃ
দীর্ঘদিনের দখল, বর্জ্য ও দূষণে বিপর্যস্ত রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলকে আবারও স্বাভাবিক রূপে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হারানো নাব্যতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে চ্যানেল ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন।
শুক্রবার সেকশন ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বিডি ক্লিনের প্রায় ৬০০ সদস্য এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। অভিযান শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে বর্জ্যের স্তূপ সরিয়ে এর পুরোনো রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে চ্যানেল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর একটি। প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ চ্যানেলের প্রায় এক হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায়। দীর্ঘদিন বর্জ্য ফেলা ও দখলের কারণে বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতা বেড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগও বাড়ে।
১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলের সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।
এবার শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না। চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা শেষে নাব্যতা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি চ্যানেলের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এতে জলধারাটির স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের হাঁটাচলা ও অবসর কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ ও জলাবদ্ধতার সমস্যাও কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, খাল ও নদীকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তিনি কার্যক্রমটি সফলভাবে সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিষ্কার করার পর চ্যানেলটি যাতে আবারও দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সেজন্য নজরদারি জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও জলাধারে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার ও পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল আবারও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও জনবান্ধব স্থানে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।