
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতাঃ
চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং ভূয়া সাক্ষী দাঁড় করানোর অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লাল মিয়া এবং মামলায় সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত অপর ব্যবসায়ী আলহাজ উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে লাল মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোড়াই কাঁচাবাজারে সবজি ব্যবসা করে আসছেন। একদিন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহান তার দোকানে এসে পণ্যের তদারকি করেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, দোকানে ট্রেড লাইসেন্স নেই এবং পণ্যে ভেজাল রয়েছে। লাল মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ‘নিরাপদ খাদ্য আইনে’ ৩ লাখ টাকার মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আশপাশের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ওই কর্মকর্তা স্থান ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে চাঁদা না দেওয়ার জেরে লাল মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মামলায় তাকে ডাল ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে তিনি সবজি বিক্রেতা বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্তের ফলাফল এখনো জানানো হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
অন্যদিকে, মামলার সাক্ষীর তালিকায় থাকা আলহাজ উদ্দিন বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তার দাবি, তার স্বাক্ষর জাল করে তাকে সাক্ষী বানানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার কাছ থেকেও প্রতি বছর ৭ হাজার টাকা করে চাঁদা নেন, যার কোনো রসিদ বা প্রমাণ দেওয়া হয় না।
ভুক্তভোগী লাল মিয়া ও আলহাজ উদ্দিন এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।