
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গায় তিন কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অভিযানে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছিল। এগুলোর মোট মূল্য তিন কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন ৬ বিজিবির সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ফেনসিডিল, ১.৮৫৭ কেজি হেরোইন, ২৩৮.৭৯ কেজি গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।তিনি বলেন, মাদক একটি বহুমাত্রিক ও জটিল সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মাদকমুক্ত দেশ গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে বিজিবির প্রতিটি সদস্য সীমান্তে দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সিভিল সার্জন হাদি জিয়া উদ্দীন,মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম, মেহেরপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল আহমেদ ও চুয়াডাঙ্গার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বদরুল হাসানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, ২০২৪ সালের ০১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালিকবিহীন মাদকদ্রব্যগুলো নষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ২৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ২৩৮.৭৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ১.৮৫৭ কেজি হেরোইন, ১.৮৯ কেজি কোকেন, ২৫ হাজার ৪৮৫ পিস ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার নেশা জাতীয় ট্যাবলেট (ভায়াগ্রা/সেনেগ্রা/ট্যাপেন্টাডল) এবং ১৯ পিস ভারতীয় নেশা জাতীয় ইনজেকশন। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এসব মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।