
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার এরশাদপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হৃদয় হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় মৃত খন্দকার এনামুল হকের ছেলে। তিনি আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদপুর গ্রামের মক্তবপাড়া মসজিদের পাশে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে হৃদয় হোসেন ও তার পার্টনার ইমরান হোসেন রতন দুই বছরের জন্য ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। সম্প্রতি লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত দুইদিন ধরে তারা পুকুরের পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার কাজ করছিলেন। শুক্রবার সকালে পুকুরে অল্প কিছু পানি অবশিষ্ট থাকায় মোটরের সাহায্যে পানি সেচের শেষ কাজ চলছিল।
নিহতের পার্টনার ইমরান হোসেন রতন জানান, “আমরা দুইদিন ধরে পুকুরের পানি সেচ দিচ্ছিলাম। শেষ মুহূর্তে হৃদয় আমাকে বলে, ‘তোরা মাছ বিক্রি কর, আমি বাকি পানি সরিয়ে দিচ্ছি।’ পরে মোটরে পানি না আসায় সে মোটরটি উঁচু করে ধরার চেষ্টা করে। হঠাৎ বিদ্যুৎ বোর্ডে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে হৃদয় জোরে চিৎকার দেয়, এরপরই নিস্তব্ধ হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করি। পরে আলমডাঙ্গার বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
ঘটনার সময় পুকুরের আশেপাশে মাছ দেখতে ও কিনতে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হৃদয়ের চিৎকার শুনে সবাই ছুটে এলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হৃদয় ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও মানবিক একজন যুবক। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং এলাকার তরুণদের সঙ্গে তার ছিল গভীর সখ্যতা। মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাঁড়াতেন তিনি। তার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, মাত্র দুই মাস আগেই হৃদয়ের বাবা খন্দকার এনামুল হক মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হৃদয়। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের উপর নেমে এলো আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারের স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
হৃদয়ের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের মাঝে গভীর শোক ও হতাশার সৃষ্টি হয়। অনেকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
একটি স্বপ্ন, একটি পরিবারের শেষ ভরসা, আর এলাকার পরিচিত এক মানবিক তরুণ—হৃদয়ের এমন অকাল মৃত্যু যেন পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।