
চুয়াডাঙ্গায় সংবাদদাতা
মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের কমলাদোহা ও বোয়ালিয়া-শ্রীকোল সংযোগ নদীতে ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে, নদীতে স্থাপিত অবৈধ কোমর অপসারণ করা হয় এবং ৫০০ মিটার চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে কোমর স্থাপন ও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছিল। এসব অবৈধ পদ্ধতির কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল এবং নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়। অভিযান চলাকালে নদীর বিভিন্ন অংশে স্থাপিত অবৈধ কোমর চিহ্নিত করে অপসারণ করা হয়। একইসঙ্গে নদীতে বিছানো বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এসময় স্থানীয় জেলেদের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তাও প্রদান করা হয়, যাতে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ৫০০ মিটার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র জানান, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী অবৈধ জব্দ করা নিষিদ্ধ জালগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার নদ-নদী, হাওর ও জলাশয়ে মাছের প্রজনন এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। এসব জালে নির্বিচারে পোনা মাছ ও ছোট জলজ প্রাণী ধরা পড়ায় প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।