
যশোর সংবাদদাতাঃ
প্রথমবারের মতো যশোরে রাজনৈতিক সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি যশোরে আসছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনতার সাথে বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। দলীয় প্রতীক ধানের শীষে তিনি ভোট চাইবেন। তার আগমনের খবরে উন্মাতাল যশোর।
শহীদ জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। যশোর জেলায় দলের শীর্ষ নেতার প্রথম জনসভাকে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় পরিণত করতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা।
জনসমাগমের কথা বিবেচনায় রেখে শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে জেলা বিএনপি তারেক রহমানের সমাবেশের আয়োজন করেছে শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে উপশহর কলেজ মাঠে।
এই সমাবেশে তিনি যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনসহ সাত জেলার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন।
রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের শহীদ গোলাম মাজেদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন দলের খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
যশোর জেলা বিএনপির এই সংবাদ সম্মেলনে ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম ও মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, বিএনপি নেতা হাজী আনিসুর রহমান মুকুল উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টা নাগাদ হেলিকপ্টারে উপশহর উদ্যানে পৌঁছাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। এরপর উপশহর কলেজমাঠে দলীয় জনসভার বক্তব্য রাখবেন। তার সাথে কেন্দ্রীয় আরো কয়েক নেতা থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সংক্ষিপ্ত সফরে তারেক রহমান যশোরে আসছেন। বেলা ১২টায় খুলনায় একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। ওই সমাবেশ শেষে তিনি হেলিকপ্টারযোগে যশোরে পৌঁছাবেন।
মাত্র দুই দিনের নোটিসে বৃহৎ সমাবেশের আয়োজন করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আশা করি সর্বকালের বৃহত্তম গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ‘একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল প্রথমবারের মতো জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে শহরের বাইরে সমাবেশ করছে। তারেক রহমানের যশোর আগমনে মানুষের যে আবেগ সেটা মাথায় রেখে শহরের বাইরে সমাবেশের আয়োজন।
আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। মানুষের কষ্ট, দুর্ভোগের কথা চিন্তা করি। তারপরও ওই এলাকার মানুষের কষ্ট হতে পারে সে জন্য অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’
তিনি বলেছেন, ‘জনগণের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। সব সময় যোগাযোগ রাখছি যাতে কোন গোলযোগ না হয়। সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে।’
তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, যশোরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার সাথে কথা বলা হবে। বিএনপি যদি রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে তাহলে কি কি চাওয়া হবে সে বিষয়ে একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা রাখি তিনি যে ওয়াদা করবেন তা রাখবেন।
তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে যশোর শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
সবাই একই রঙের টিশার্ট গায়ে চড়িয়ে মিলিয়ে অংশ নেন। এসময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় শহরের রাজপথ। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘তারেক রহমান আসছে, যশোরবাসী হাসছে’, তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ ইত্যাদি।