
যশোর সংবাদদাতাঃ
যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি বাজার এলাকার মারাত্মক জখম শিক্ষিকা তরফদার বাড়ির মেয়ে মিসেস রুবিনা আলম মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এসময় তার বোন জান্নাতুল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। তাদের পিতা: শাহ আলম তরফদার। তাদের আদি বাড়ি শানতলায়।
তিনি মোহাম্মদপুরে একটি সনামধন্য কলেজের প্রাণীবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষকতা করেন। একজন শিক্ষক হিসেবে সমাজের মানুষ গড়ার কারিগর হওয়া সত্বেও আজ আমি এক বুক আতঙ্ক আর নৃশংস হামলার শিকার হয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। প্রভাষক জানান তিনি গত মঙ্গলবার ভোট দিতে ঢাকা থেকে যশোরে আসেন।
চুড়ামনকাটি বাজার এলাকায় গত ৩০ বছর যাবৎ স্থায়ীভাবে বসবাস করছি। আমাদের প্রতিবেশী মি. সামাদ। তার জামাতার সহায়তায় কোনো প্রকার আইনগত অধিকার ছাড়াই এলাকার একটি প্রাচীন জনপথ অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন। যা বিগত ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে প্রায় ২৫-৩০টি পরিবার ব্যবহার করে আসছিল । অথচ মূল ভূমি মালিক আমিন তরফদার দলিলে এই অংশটি রাস্তা হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন।
এই শশুর জামাতা জনপথে অবৈধ দরজা নির্মাণ করে যাতায়াত বন্ধ করে দিলে এলাকায় নিয়মিত বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিবাদী সামাদের জামাতা সোহান ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রভাষক রুবিনা আলম মাথায় কোপ দেয়। এতে তিনি জখম হন এবং আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় ঐ শিক্ষিকার মা চাঁদ সুলতানা, বোন জান্নাতুল ফেরদৌসও হামলার শিকার হন। একজন শিক্ষক হিসেবে সমাজে যে সম্মান, অভিযুক্তরা এই বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে তা ধুলিসাৎ করেছে। সামাদের সাথে রয়েছে তার ভাই আলম ও ছেলে গোলাম রসুল।
ভুক্তভুগিরা সুনির্দিষ্ট দাবির ভিত্তিতে আদালত ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে,
১. অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: বিবাদীদের দ্বারা অবৈধভাবে নির্মিত সকল স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদের আদেশ প্রদান করা হোক।
২. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: উক্ত বিতর্কিত ভূমিতে ভবিষ্যতে যেন বিবাদীগণ আর কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সেজন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক।
৩. চলাচল পুনঃস্থাপন: জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এই প্রাচীন পথটিতে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা পুনরায় নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করা হোক।
৪. হামলাকারীদের বিচার: শিক্ষিকা ওপর হামলাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
৫. নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা: একজন শিক্ষক প্রভাষক হিসেবে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে তার বিচার তিনি দাবি করেন। আর কারো উপর কখনও এধরনের গর্হিত বর্বরোচিত হামলার ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।