
যশোর সংবাদদাতাঃ
একজন প্রবাসী তার আয়কৃত টাকা হারিয়ে এখন পথে বসেছেন। দুই চোখে তিনি অন্ধকার দেখছেন। অর্থ আত্মসাতকারী স্ত্রী তার কাছে থাকা স্বামীর ৬০ লাখ টাকা দেবে না বলে বাপের বাড়ি চলে গেছে। ঐ স্ত্রী এখন সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে সে আর সংসার করবে না। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারী বাড়ি ডেকে এনে ঐ স্ত্রী ও তার লোকজন ভুক্তভুগিকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রাখে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামের। ভুক্তভুগির নাম হারুন অর রশিদ (৪০)।
তিনি এ বিষয়ে মনিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে হারুন অর রশিদ হানুয়ার আব্দুল মজিদ গাজীর ছেলে। ২০১১ সালে একই উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের রুবিনা খাতুন (৩০) কে বিয়ে করে। এরপর তিনি মালয়েশিয়া চলে যান। সেখানে থেকে আয় করে স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন। এভাবে এক কোটি টাকার বেশি পাঠিয়েছেন। রুবিনা এ বিষয়ে তাকে জানায় তার কাছে ৬০ লাখ টাকা জমা আছে। গত বছর হারুন বাড়ি ফিরে আসলে স্ত্রী তাকে বলে তার কাছে ৪০ লাখ টাকা আছে। কিন্ত পরদিন গোপনে বাপের বাড়ি চলে যায়। জানিয়ে দেয় আর সংসার করবে না।
একমাত্র ছেলে আলভী (১৩) কে দেখতে ও টাকা আনতে গেলে ১৯ ঘটনার দিন ১৯ ফেব্রুয়ারী শশুর বাড়ি যায়। বেলা তিনটার দিকে সেখানে গেলেই প্রায় ত্রিশ জন তাকে ধরে ব্যাপক মারধোর শুরু করে। মারতে মারতে তাকে গাছে ঝুলিয়ে দেয়। পাশাপাশি গ্রাম হওয়ায় হারুনের বাড়ি খবর চলে যায়। তার পিতা ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এরপর পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসা দিয়ে খানিক সুস্থ করে।
অভিযোগপত্র অনুসারে রুবিনা, শাশুড়ি জাহানারা বেগম, স্যালক আব্দুল্লা, ইদ্রিসের ছেলে সাইফুল ও রাজু, নিজামের ছেলে ইসাহক, মোজাফ্ফর, নিজামকে হারুন চিনতে পেরেছে। সে অন্য লোকজনের নাম বলতে পারেনি।
রবিবার হারুন অর রশিদ জানান, বিয়ে করে রুবিনা কে এম এ পাশ করান। বিদেশ থেকে তিনি বিভিন্ন মানি এক্সপ্রেস, বিকাশ নগদ ও অন্যান্য মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। সেই টাকা স্ত্রী তার একাউন্টে জমা করতো। রুবিনা রাজগঞ্জ বাজারের আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে টাকা রাখতো। কয়েক দিন আগে ব্যাংকে গেলে ম্যানেজার তাকে জানান, শেষে যে ৫৫ হাজার টাকা ছিল তাও রুবিনা তুলে নিয়ে গেছে। এখন ঐ একাউন্টে আর কোন টাকা জমা নেই। এখন সে টাকার শোকে পথে পথে ঘুরছে। এরমধ্যেই তাকে স্ত্রী ও তার লোকজন হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। সে তার গায়ের আঘাতের চিহ্ন দেখায়। আর জানায় এখনো ব্যাথা লাঘবে তাকে ওষুধ খেতে হচ্ছে।
একমাত্র ছেলের কথা চিন্তা করে সে আর কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তবে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
মনিরামপুর থানার এস আই ওবায়দুর রহমান বলেন, তারা জানে হারুন অসুস্থ। কিন্ত রুবিনার বাড়ির লোকজন বলে সে মাদক সেবন করে। আর তারা অভিযোগ করেছে হারুন প্রতিদিন রুবিনাদের হুমকি দিচ্ছে। তারা সেই অভিযোগ করেই চলেছে।
এদিকে হানুয়ার গ্রামবাসী জানায় রুবিনা ও তার পরিবারের লোকজন ভয়ঙ্কর আওয়ামী সন্ত্রাসী। এরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। হারুন বিএনপি সমর্থীত। এরা টাকা পয়সা আত্মস্বাত করতে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করেছিল।