
হক আমীন:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম ভবনগর। শান্ত, নিরিবিলি এ গ্রামটি আজ এক ভিন্ন কারনে পরিচিত হয়ে উঠেছে । আর সেই কারন একজন মানুষ- নাজমুল হাসান। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি পরিচিত "হনুমানের বন্ধু" হিসেবে ।
প্রতিদিন সকাল কিংবা বিকেলে এক বিশেষ দৃশ্য দেখা যায় ভবনগর গ্রামে। নাজমুল হাসান 'আয় আয়' ডাক দিলেই আশপাশের গাছগাছালি আর ঝোপঝাড় থেকে ছুটে আসে শত শত কালোমুখো হনুমান। মুহূর্তেই চারপাশ ভরে ওঠে তাদের কোলাহলে। নাজমুল তখন মমতাভরে কলা, পাউরুটি, বাদামসহ নানা খাবার তুলে দেন এ অবলা প্রানীদের হাতে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দশ বছর ধরে নিয়মিতভাবে হনুমানগুলোকে খাবার খাইয়ে আসছেন নাজমুল । শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ। একদিন ক্ষুধার্ত কয়েকটি হনুমানকে খাবার দিলে, তারা পরদিন আবার আসে। সেই থেকে শুরু । ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে হনুমানের অঙ্ক আর তাদের সঙ্গে গড়ে ওঠে অদ্ভূত মমতার সম্পর্ক।
নাজমুল হাসান বলেন, "এরা অবলা প্রানী। বন- জঙ্গল কমে যাওয়ায় খাবার সঙ্কটে ভোগে। তাই যতটুকু পারি এ প্রানীদের জন্য কিছু করি। আয় আয় ডাক দিলে ওরা ছুটে আসে- এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ ।"
গ্রামবাসীরাও বিষয়টি বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। অনেকেই মনে করেন, মানুষের সঙ্গে বন্য প্রাণীর এমন মধুর সম্পর্ক খুব একটা চোখে পড়ে না। নাজমুলের এ উদ্যোগ শুধু প্রানীর প্রতি ভালোবাসারই দৃষ্টান্ত নয়, বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র রক্ষার এক মানবিক বার্তাও বহন করে ।
সীমান্তের ছোট্ট গ্রাম ভবনগর তাই প্রতিদিনই যেন লেখা হয় এক অনন্য গল্প- মানুষ ও প্রানীর সহাবস্থানের গল্প । আর সেই গল্পের কেনদ্রবিন্দুতে আছেন একজন মানুষ, নাজমুল হাসান; যার মমতাময় ডাক শুনে ছুটে আসে বোবা প্রানী হনুমানের পাল।