
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে পরীক্ষায় কৃতকার্যদের তালিকা প্রকাশের পর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তালিকায় রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম থাকার অভিযোগ তুলে রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় ছাত্র সংগঠন ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় তারা নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে মেধার ভিত্তিতে তালিকা করার দাবি জানায়। একপর্যায়ে কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর দেশে মেধাভিত্তিক নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে। অথচ এখানে আবারও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
তবে এই নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্নমতও দেখা গেছে। অনেকের মতে, যদি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রধান মানদণ্ড ধরা হয়, তাহলে কোনো প্রার্থীর অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার প্রাপ্য সুযোগ বাতিল করা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
তাদের বক্তব্য, অতীতে কোটা ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছে, এখন যদি শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বাদ দেওয়া হয় তাহলে সেটিও আরেক ধরনের বৈষম্য। পরীক্ষায় পাস করেছে কি না, সেটাই দেখা উচিত।
এদিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বাদ দিলে পরবর্তীতে কাদের নিয়োগ দেওয়া হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সময় ইউএনও অফিসে ছিলেন না। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসে আন্দোলনকারীদের ৩ দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিলে তারা কর্মসূচি স্থগিত করে।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।