
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা
পদ্মা নদীর ওপারে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর নৌকাঘাট সংলগ্ন দেলোয়ার হোসেনের ইটভাটা এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা। দিনে সুনসান নীরবতা থাকলেও গভীর রাতে সেখানে উন্মুক্তভাবে ভাঙা হচ্ছে শত শত পুরাতন ব্যাটারি। কয়লা ও কাঠের আগুন জ্বালিয়ে বের করা হচ্ছে বিষাক্ত সিসা, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ও মধ্যরাতে এ দৃশ্য দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিকরা জানান, পাবনার মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি কারখানাটির মালিক। প্রায় দেড় মাস ধরে চলছে কারখানাটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ও অনিরাপদভাবে পরিচালিত এই কারখানা থেকে নির্গত সিসাযুক্ত ধোঁয়া, দূষিত ধূলিকণা ও রাসায়নিক পদার্থ মাটি, পানি ও বায়ুতে মিশে চারপাশকে দূষিত করছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের শত শত বিঘা কৃষি জমি ও ফসল।
ইটভাটার মালিক দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে অভিযোগ করে বলেন, পাবনার মনির স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাত করে নিয়েছে। মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করছে। বারবার নিষেধ করার পরও বন্ধ হয়নি। আপনারা ব্যবস্থা নিন।
অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করার কথা স্বীকার করে মনির হোসেন বলেন, সবাইকে ম্যানেজ করেই দেড় মাস ধরে কারখানা চালাচ্ছি। তবে বাতাসের কারণে বেশিরভাগ দিনই বন্ধ রাখতে হয়। ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, দিনের বেলায় কোনো কাজ করে না। রাত সাড়ে ১১টার পর ট্রাক ভরে মাল আসে। আর ১২টার দিকে জ্বালানো হয় আগুন। চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান টিক্কা, বিএনপির কর্মী জালাল ও হযরতের ছত্রছায় চলছে এই অবৈধ কারখানা।
এ বিষয়ে হাফিজুর রহমান টিক্কা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারা কি করতে জানিনে। আমি এসবের নাই। আপনারা মনিরের সাথে মিলতাল করে নেন।
তবে অবৈধ ব্যাটারি কারখানার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নয় বলে জানান চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম। তিনি বলেন, দিন পনেরো আগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কারখানার লোকদের দৌড়ানি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে চলে কিনা তা জানা নেই।
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট হাবিবুল বাসার বলেন, ব্যাটারির ভিতরে সালফিউরিক অ্যাসিড থাকে। উন্মুক্তভাবে ব্যাটারি ভেঙে সিসা বের করার ফলে বাতাসে সিসা ও লেডের পরিমাণ বেড়ে যায়। যা পরিবেশ ও মাটির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
দ্রুতই অবৈধ ব্যাটারি কারখানায় অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার।