
নেত্রকোনা সংবাদদাতা
নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েক দিন যাবত সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের ঘুষ বানিজ্য নিয়ে দরবার শালিশের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।এখানে অনিয়মটা যেন নিয়ম, প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছে সেবা গ্রহীতারা, ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না। ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো সেবার বিনিময়ে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। অফিসে গ্রাহকদের হয়রানি নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব শাহানা আক্তারের ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের কাছে রীতিমত জিম্মি হয়ে পড়েছে সেবাগ্রহীতারা এমন অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলে।
সরেজমিনে আরও জানা গেছে, সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তুলা সহ ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ভাবে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে। চুক্তির টাকা ছাড়া কোন ফাইলই নড়ে না। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোনো কাজ আদায় করা যায় না। এই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহক থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার পরও বিভিন্ন ভাবে হয়রারি করছে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে মাঠ পর্যায়ের সাহতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে জমির কাজে আসা ভূক্তভোগীরা বলছেন। সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, ভূমি অফিসে আসা বেশ কয়েকজন সেবা গ্রহীতারা জানান, এই অফিসের ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তার ভূমি অফিসে কাজে আসা গ্রাহকদের কাজ সম্পাদনের বিষয়ে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন। আর এই চুক্তি করার জন্য তিনি রেখেছেন একটি দালাল সিন্ডিকেট। অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরও সেবা প্রাপ্তির ৯৫ শতাংশ লোকই চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। আজ না-কাল এভাবে সময়ক্ষেপন করে গ্রাহকদের হয়রানি করছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত হারে দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে সেবা গ্রহীতারা পান না তাদের কাঙ্খিত সেবা।
ভুক্তভোগীরা জানান, দুর্নীতির একটি অভিনব কৌশল এখানে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে নামজারি বা খারিজের আবেদনের ক্ষেত্রে কেউ যদি নিয়ম মেনে তাদের যে কম্পিউটারের দোকান আছে সেখানে সরাসরি আবেদন না করেন এবং ঘুষ না দেন, তখন এই ভূমি অফিস থেকে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। যেমন—জমির দাগ নম্বর ভুল লেখা বা হোল্ডিং নম্বর নেই বলে উল্লেখ করা হয়। এই ভুল প্রতিবেদনের কারণে এসিল্যান্ড অফিস থেকে আবেদনটি সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপর ভুক্তভোগী যখন পুনরায় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেন, তখন তাকে তাদের নিজস্ব দালালদের মাধ্যমে ‘স্যারকে খুশি’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে সেবা প্রার্থীরা তখন ঘুষ দিতে বাধ্য হন। ভূক্তভোগীরা আরও জানান, এই ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে যে সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। নামজারির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মোটা অংক টাকা আদায় করে উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগীদের দাবী এই ভূমি কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের দুর্নীতি রোধে দুদকের সু-হস্তক্ষেপ জরুরি।এ ব্যাপারে জানতে সাহতা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। এব্যাপারে কথা বলতে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সেলিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমি এখানে এসেছি মাত্র তিন দিন, তবে এই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহানা আক্তারের ঘুষ নিয়ে একটি শালিশের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে দেখেছি। আমি উধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।