
রাজশাহী প্রতিনিধি
বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম এবং জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ অফিসারদের দক্ষতা ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে সবসময় আধুনিক ও আপডেটেড রাখতে হবে।
গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০২৫ ব্যাচের ২০৯ জন প্রশিক্ষণার্থীর মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে আইজিপি বলেন, "এই দীর্ঘ ও কঠোর প্রশিক্ষণকাল তোমাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং নৈতিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করেছে। তোমাদের সামনে যে পথ উন্মুক্ত হচ্ছে, তা যেমন সম্মানের, তেমনি দায়িত্বপূর্ণ। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে তোমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করা।"
তিনি পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কর্তব্য পালনের আহ্বান জানান।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই হলো বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া নবীন কর্মকর্তাদের নৈতিক কর্তব্য বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, "তোমরা আজ শুধু একটি চাকরিতে যোগ দিচ্ছ না, বরং একটি মহান সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করছ, যে পেশার মূলমন্ত্র হলো ‘সেবাই ধর্ম’। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের বিপদে সহায়তা করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার মূল্যবোধ ধারণ করেই তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নবীন কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে সর্বদা পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবেন।
অনুষ্ঠানে সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ জি এম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ সুপার শুভ কুমার ঘোষ।
অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী এসআইদের অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি অভিবাদন গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী এসআইদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।