
রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীর সুলতানাবাদ এলাকায় আদালতের স্থিতিবস্থা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক বসতভিটা ও মার্কেট জোরপূর্বক দখল, ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন নগরীর সুলতানাবাদ (ঘোড়ামারা) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মাজেদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মাজেদ জানান, গত ২৩ এপ্রিল সকালে একদল দুষ্কৃতকারী ও সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি সুলতানাবাদস্থ তাঁর পৈতৃক ভিটা-বাড়ি ও মার্কেট ভেঙে ফেলে এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। বর্তমানে ওই সম্পত্তিতে মো. মাসুম সরকার ও কামরুলের নেতৃত্বে ‘হারু গ্রুপ’-এর প্রায় ৬০-৭০ জন লোক দিনরাত পাহারা দিচ্ছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ও সন্ত্রাসী কায়দায় ত্রাস সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী মাজেদ দাবি করেন, এই সম্পত্তি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (মামলা নং- ১০৫৮৮/২৫) এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আরেকটি মামলা (নং- ৪২৩/২৩) বিচারাধীন রয়েছে। আইন অনুযায়ী মামলা চলাকালীন ওই স্থাপনায় স্থিতিবস্থা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া রাজশাহী সহকারী সিভিল জজ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলাও (নং- ৯৩/২২, মূল মামলা নং- ৬৮/১৭) চলমান আছে, যেখানে ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর থেকে সম্পত্তির ওপর সকল প্রকার কার্যক্রমের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত হিসেবে ১নং দুষ্কৃতকারী মো. মাসুম সরকার (রাঙ্গাপরি) ও ২ নং দুষ্কৃতকারী কামরুলের নাম উল্লেখ করা হয়।
মাজেদ অভিযোগ করেন, তারা আওয়ামী লীগের দোসর এবং চিহ্নিত ভূমিদস্যু। তাদের সাথে মো. ফারুক, মাহাবুর রহমান সোহেল, মো. বিপুলসহ হারু গ্রুপের সদস্যরা জড়িত।
আব্দুল মাজেদ আক্ষেপ করে বলেন, "হারু গ্রুপ বিএনপি সমর্থিত দলের সদস্য দাবি করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তারা আইনকানুন কিছুই মানছে না।"
ভুক্তভোগীর দাবি, এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় বোয়ালিয়া মডেল থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং তাঁর নিরাপত্তা বা আদালতের স্থিতিবস্থার বিষয়টি আমলে নেয়নি। এর আগে গত ২ এপ্রিল অভিযুক্তদের আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল এবং বাড়ির সামনে মামলার সতর্কীকরণ ব্যানার টাঙানো ছিল। কিন্তু মাসুম সরকার ও তার সহযোগীরা পেশিশক্তি ও টাকার জোরে এসব তোয়াক্কা না করে অন্যায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মাজেদ তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান (রিটন), ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশ কমিশনার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সাথে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।