
রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী সরকারি কলেজে কর্মরত বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিতকরণ ও রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের ৪ দফা দাবিতে রাজশাহীতে বিভাগীয় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজশাহী কলেজের প্রধান গেটের সামনে 'সরকারি কলেজ বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন, রাজশাহী বিভাগ'-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
এতে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীরা অংশ নেন।
এর আগে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় রাজশাহী কলেজ প্রশাসন ভবনের সামনে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী একত্রিত হন। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় সেখান থেকে একযোগে মানববন্ধনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করা হয়।
বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজশাহী কলেজের প্রধান গেটের সামনে চলে এই মানববন্ধন।
কর্মসূচি শেষে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে পুনরায় রাজশাহী কলেজের ১৭ নম্বর গ্যালারি হাজী মুহম্মদ মহসিন ভবনে আমন্ত্রিতরা সমবেত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও বিভাগীয় কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ এবং সভাপতিত্ব করেন সরকারি কলেজ বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন, রাজশাহী বিভাগের সভাপতি মো. এহসানুল কবীর ইমন।
কর্মসূচিতে আন্দোলনরত কর্মচারীরা তাদের অধিকার আদায়ে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—১. সরকারি কলেজে কর্মরত বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিত ও রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে; ২. চাকরি নিয়মিতকরণের পূর্ব পর্যন্ত সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি প্রদান করতে হবে; ৩. দীর্ঘদিন যাবৎ অস্থায়ীভাবে কর্মরতদের ব্যতিরেকে নতুন নিয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং কর্মরতদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করতে হবে; এবং ৪. অস্থায়ীভাবে কর্মরতদের চাকরি থেকে ছাঁটাই বন্ধ ও চাকরির নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে, শূন্য হাতে কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।
মানববন্ধনে আন্দোলনকারীরা বলেন, "আমরা দেশের স্বনামধন্য ৩৩০টি (পুরাতন) সরকারি কলেজে ১ থেকে ৩৬ বছর যাবত ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে বেসরকারিভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের আলোকে স্ব স্ব কলেজের অধ্যক্ষের নিয়োগের মাধ্যমে চাকরি করে আসছি। কিন্তু আমাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হচ্ছে না। আমাদের অনেকের বয়স ৩০ বছরের বেশি হয়ে গেছে। আমরা সামান্য মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা সরকারি কলেজের যে দফতরে চাকরি করছি, সেখানে সরকারি দায়িত্বই পালন করছি। বিভিন্ন কলেজ জাতীয়করণ বা সরকারিকরণ করা হলেও আমাদের বিষয়টি মানবিক বিবেচনা করা হচ্ছে না।"
উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি মো. এহসানুল কবীর ইমন, সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম সুইট, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, মো. মোখলেছুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. আরিফ হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, মো. মোতালেব হোসেন পাপ্পু, সহ-সভাপতি মো. নুরুল আমিন, মো. আবুল বাসার, মো. সুমন সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. বদিউজ্জামান নয়ন, উপদেষ্টা মো. আলফাজ হোসেন এবং সহ-সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ।