
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার পর থেকে দফায় দফায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে এ ঝড়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড় ও বৃষ্টিতে উপজেলার কেশরতা, মুরাদপুর, কুসুম্বী, কদমা, করজবাড়ী ও মন্ডবপুর গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের চাল উড়ে যায়| অনেক দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মেঘের গর্জন ও বজ্রপাতের কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বিদ্যুতের মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়েছে। এছাড়া প্রচন্ড ঝড়ে পাকাধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে| শাকসবজির ক্ষেতও মাটির সাথে মিশে গেছে।
উপজেলার মন্ডবপুর গ্রামের বাসিন্দা নাছিম, আব্দুল বারী, আহম্মদ আলী, বুলু মিয়া ও তালেব জানান, হঠাৎ করে রাতের ঝড়ে আমাদের ঘরের চাল উড়ে গেছে| বসতবাড়ির উপর গাছপালা ভেঙে পড়েছে।এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার কুসুম্বী গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল ফকির জানান, প্রচন্ড ঝড়ে আমার বাড়ির টিনের চাল উপড়ে গিয়ে জমিতে পড়ে| এতে ঘরের বিছানা, কাঁথা, বালিশ ও আসবাবপত্র সব ভিজে গেছে। একাকার হয়ে যায়| এখন খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে।
সান্তাহার নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ¦ল হোসেন জানান, সকাল থেকে আমাদের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন। তাছাড়া অনেক গাছপালা মেইন লাইনের উপর ও পোলের উপর ঝুলিয়ে রয়েছে| সেগুলো সরিয়ে নিতে একটু সময়ের প্রয়োজন|
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, ঝড়ে স্থানীয় কৃষকদের বোরো ধানসহ শাকসবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করার জন্য মাঠ পর্যায়ে লোক পাঠানো হয়েছে।
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক বিষয়ের খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।