
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি :
মো. রানা মাসুদ। পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) হিসেবে ২২ বছর যাবৎ কর্মরত। তিনি বর্তমানে বগুড়ার আদমদীঘি থানায় রয়েছেন। গত ১ মে আদমদীঘি থেকে তাঁর মেয়ে তাসনিয়া রানা তামান্না সকাল ৭ টার দিকে অপহরণ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। তিনি একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে প্রথমেই বিষয়টি থানার ওসিকে অবগত করেন। এরপর তিনি ডিজি বা একটি মামলা করতে চান। কিন্তু ওসি ঘুষ দাবী করেন। নিরুপায় হয়ে তিনি ডিআইজিকে মুঠোফোনে বিষয়টি খুলে বলেন। ডিআইজি সঙ্গে সঙ্গে থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলায় ওসি একটি সাধারণ জিডি করেন। তবে তাতে খুশি ছিলেন না কনস্টেবল রানা মাসুদ। তিনি মামলা করতে চান। অবশেষে মামলা দায়ের হয় কিন্তু দীর্ঘ এক মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ তার মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেন নি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি একজন পুলিশ সদস্য, আমি বিচার পাচ্ছি না। তাহলে দেশের সাধারণ জনগণ কিভাবে বিচার পাবেন? অবশেষে তার অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারের জন্য সরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮ টার দিকে পুলিশ কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়ে তাসনিয়া রানা তামান্না (১৭) প্রাইভেট পরতে গিয়ে প্রথম বারের মতো নিখোঁজ হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই দিনই জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সোনাপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে শহিদ হোসেনসহ (১৮) কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর নারী শিশু নির্যাতন আইনের ৭/৩০ মূলে আদমদীঘি থানায় একটি মামলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) বাবুল আক্তার ভিকটিমকে উদ্ধারপূর্বক আদালতে ভিকটিমের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করান এবং আদালতের মাধ্যমে ভিকটিমকে পিতার জিম্মায় প্রদান করেন।
তবে জবানবন্দিতে ভিকটিম তাসনিয়া রানা তামান্না বলেন, আসামী শহিদের সাথে তার ৪ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। এজন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারিতে শহিদের সাথে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করতে থাকেন। অপর দিকে ভিকটিমের বয়স ১৭ হওয়ায় এবং ডাক্তারি পরিক্ষার মতামতের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ৩০ এপ্রিল তদন্ত শেষে আসামী শহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর গত ১ মে তাসনিয়া রানা তামান্না সকাল ৭ টার দিকে আবারও শহিদ হোসেনের সাথে চলে গেলে বাবা পুলিশ সদস্য রানা মাসুদ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই প্রেক্ষিতে আদমদীঘি থানায় গত ৭ মে একটি মামলা রুজু হয়। মামলাটি বগুড়া জেলা ডিবির অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে এবং ভিকটিম উদ্ধারসহ আসামী গ্রেপ্তারের তৎপরতা চলমান রয়েছে।
এদিকে ভিকটিম তাসনিয়া রানা তামান্না (১৭) তার নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে লাইভে এসে বিবৃতি প্রদান করেছেন। সেখানে উল্লেখ করেন, আমার নামে কিডন্যাপিং বা অপহরণের যে মামলাটি দেওয়া হয়েছে এটি পুরাটাই মিথ্যা এবং ভূল, বানোইয়াট। বাবা একজন পুলিশ কনস্টেবল হয়ে নিজের মেয়ের নামে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। আসলে আমার হাজবেন্ডের সাথে ৪ বছরের সম্পর্ক। বাবা এবং আমাদের ফ্যামিলির মানুষজন এটা মেনে নিচ্ছে না। এজন্য আমার হাজবেন্ডের নামে পোস্টার ছাপাচ্ছে। তারা যা করছে, সব মিথ্যা।
জানতে চাইলে আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ঘুষ দাবীর বিষয়টি মিথ্যা। পুলিশের মেয়ে মানে সে আমাদেরও মেয়ে। যথা সময়ে তার মামলা নেওয়া হয়েছিলো। তারপরও মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে তিনি (রানা মাসুদ) থানায় অনুপস্থিত রয়েছেন। তার মামলাটি ডিবিতে তদন্তনাধীন।