
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘিতে কালো বাজারে বিক্রির উদ্দেশে দুটি গুদামে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার মজুদ রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সার ডিলার সচিব চন্দ্র সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তার দুটি সার গুদাম সিলগালা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টায় উপজেলার নসরতপুর বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সজল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জুয়েল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক কোরবান আলী, সান্তাহার পৌর বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান আজাদ, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মাসুদ রানা ও সাবেক ছাত্রনেতা সোহেল রানা প্রমুখ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স মঙ্গল চন্দ্র সাহা ও মেসার্স সচিব চন্দ্র সাহা নামে দুই সার ডিলার ডিএপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার তার চাঁপাপুর গুদামে মজুদ না করে নসরতপুর বাজারে পৃথক দুটি গুদামে পাচারের উদ্দেশে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা মজুদ করে রাখেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনতা বিষয়টি জানতে পেরে দুটি গুদাম ঘেরাও করে সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম উল্লেখিত গুদামে অভিযান পরিচালনা করেন।
এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত দুটি সার ডিলারের স্বত্বাধিকারী সচিব চন্দ্র সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া দুটি সার গুদামে পাচারের জন্য মজুদ রাখা ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সারসহ গুদাম সিলগালা করেন।
বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার জানান, কৃষকদের সার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রি বা পাচার করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।