
পাঁচবিবি জয়পুরহাট সংবাদদাতা
জয়পুরহাটের সীমান্ত ঘেষাঁ পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দিন দিন বেড়েই চলছে বাসা বাড়ীতে দূধর্ষ চুরি। চুরি ঠেকাতে গ্রামে গ্রামে রাতের বেলায় পাহারার ব্যবস্থা থাকলেও কোন ক্রমেই ঠেকানো যাচ্ছে না চুরি। সংবদ্ধ চোর চক্র বাসাবাড়ীর জানালার গ্রিল কেটে, কখনো বা সিঁধ কেটে প্রতিনিয়ত গরু-ছাগল, স্বর্ণ অলংকার, নগদ অর্থ সহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু ছাগল লালন পালন করলেও চোরোরা তাদের সেই সম্বল চুরি করায় অনেকেই এখন পথে বসেছেন। প্রতিদিন এভাবে চুরির ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষ তাদের গবাদি পশু ও বাড়ীর আসবাবপত্র নিয়ে চুরি আতংকে রয়েছেন। ভূক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রত্যোকটা চুরি একই কায়দায় হওয়াই সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও বাসা বাড়ীর পানির পাম্প, আসবাববপত্র, ক্ষেতের ফসল সহ অহরহ চুরি হচ্ছে প্রতিদিন। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে ভূক্তভোগী পরিবার গুলো থানায় অভিযোগ করলেও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও চুরি ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবদ্ধ চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
এর মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার রাতে (২০ মে) আবারও পাঁচবিবি পৌরসভার মালঞ্চা হঠাৎপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে বিপুল হোসেনের গোয়াল ঘর থেকে ফ্রিজিয়ান জাতের ২টি গাভী ও ২টি বাছুর এবং একই রাতে তার ভাই তাইবুর রহমানের বাড়ী থেকে একটি গাভী চুরি হয়। যার মুল্য ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে গত মাসের ২৩ এপ্রিল হতে চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ১০টির অধিক দূধর্ষ চুরি সংঘঠিত হয়েছে।
চুরি গুলো হলো ২৩ এপ্রিল উপজেলার পাটাবুকা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলামের বাড়ী থেকে একটি ফ্রিজিয়ান গাভী চুরি হয়। এর দুদিন পর ২৫ এপ্রিল পৌরসভার ঢাকাইয়া পট্টি মহল্লায় গভীর রাতে নিপেন সরকারের স্ত্রী ইতি রানীর বাড়ী থেকে ৩'টি বিদেশী জাতের গরু চুরি হয়। একই মাসের ২৯ এপ্রিল সীমান্তবর্তী ভীমপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আফজাল হোসেনের গোয়াল ঘরের সিঁধ কেটে ৭ লক্ষ টাকা মুল্যের বিদেশি জাতের ৩'টি গাভী ও একটি দুধের বাছুর চুরি করে।
চলতি মাসের ৪ মে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম হিন্দুপাড়া গ্রামের মৃত কৈলাশ চন্দ্রের পুত্র কমল চন্দ্রের বাড়ীর জানালার গ্রিল কেটে চোরেরা সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ, গরু বিক্রয়ের নগদ দুই লক্ষ টাকা ও কাঁসার থালা বাসন ও একই রাতে পৌরসভার দমদমা মহল্লার পুরাতন অফিস সংলগ্ন পাঁচবিবি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ঈশিতা আকতারের বাড়ীর জানালার গ্রিল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে ১ ভরি স্বর্ণ, একটি ল্যাপটপ, ৭ ভরি রুপার গহনা ও নগদ ২০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরের দিন ৫ মে মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার নাকুড়গাছী মহল্লার লাভলু মন্ডলের গোয়াল ঘরের সিঁধ কেটে ২টি হালের বলদ চুরি হয়। ১৪ মে দুপুরে উপজেলার ছোট মানিক গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের স্ত্রী লিপি বেগমের বাড়ীতে চোরেরা প্রবেশ করে আলমারির তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা সহ প্রায় ২২ লক্ষ টাকার স্বর্ণলংকার এবং ১৯ মে গভীর রাতে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের চিকনমাটিয়া গ্রামের মফিদুল মহুরী ও তার চাচার বাড়ীর জানালার গ্রিল কেটে নগদ টাকা ও স্বর্ণলংকার করে নিয়ে যায়। ঐরাতেই একাধিক বাড়ীর জানালার গ্রিল কেটে চোরেরা প্রবেশ করলে বাড়ীর মালিক জাগ্রত হওয়ায় গ্রামবাসীর ধাওয়াই চোরেরা পালিয়ে যায়।
নাকুরগাছী এলাকার লাভলু মন্ডল বলেন, ১৫ দিন হলো আমার একমাত্র আয়ের উৎস দুটি হালের বলদ চুরি হয়েছে। থানায় অভিযোগ করলাম, কিন্তু কোন সন্ধান আজ পর্যন্ত পেলাম না। থানায় যোগাযোগ করলে তারা আমাকেই সন্ধান নিয়ে জানাতে বলেন।
সমাজসেবক আমজাদ হোসেন বলেন, সর্বত্রই মাদকাসক্ত ও অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) বেড়ে গেছে, এ কারণেই চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ মোঃ রায়হান জানান, চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা সহ জন সাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।