
জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বাড়ছে ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা। চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে যানবাহন রেখে ভেতরে যাওয়ার পর ফিরে এসে অনেকেই তা আর খুঁজে পাচ্ছেন না। নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকলেও চুরি বন্ধ না হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতাল প্রাঙ্গনে ধারাবাহিকভাবে যানবাহন চুরি হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর নজরদারি কিংবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে সব সময় চুরির আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ জানান, নাতির পা কেটে গেলে তিনি কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে ভ্যান রেখে নাতিকে চিকিৎসার জন্য ভেতরে নিয়ে যান। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে এসে মাত্র পাঁচ মিনিট পর ফিরে দেখেন ভ্যানটি নেই। তিনি বলেন, ভ্যানটিই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। এখন আমি কীভাবে সংসার চালাব? এর দায় কে নেবে? আমি বিচার চাই।”
স্থানীয়দের দাবি, দেশের অন্যান্য হাসপাতালের মতো কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও নিরাপত্তার দায়িত্বে ১০ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। তবে তাদের উপস্থিতিতেও চুরি বন্ধ না হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বজন জাহেরুল ইসলাম বলেন,রোগী দেখতে হাসপাতালে এসে যদি মোটরসাইকেল, অটো বা ভ্যান হারাতে হয়। তাহলে এর দায় কে নেবে?
হাসপাতালে আসা এক ভ্যানচালক বলেন, জরুরি বিভাগের সামনে ভ্যান রেখে রোগী নিয়ে ভেতরে যাই। ফিরে এসে দেখি ভ্যান নেই। এত চুরির পরও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সব জায়গা কাভার করে না।
সবশেষ গত ২৫ জুলাই দুপুর ২টা ২২ মিনিটে আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতেই হাসপাতাল প্রাঙ্গন থেকে আরও একটি ভ্যান চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ভ্যান চুরির ঘটনায় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. শরীফ হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) নাহিদ নাজনীন ডেইজি বলেন, কিছুদিন আগে হাসপাতাল প্রাঙ্গন থেকে একটি ভ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পুরো হাসপাতাল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও কিছু জায়গায় সমস্যা রয়েছে। এছাড়া গ্যারেজেরও সমস্যা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল প্রাঙ্গন থেকে একটি ভ্যান চুরির ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে এ থানা এলাকায় দুই-তিনটি ভ্যান চুরির অভিযোগ এসেছিল। এর মধ্যে দুটি ভ্যান উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, গত ২৫ জুলাই হাসপাতাল থেকে ভ্যান চুরির ঘটনাটি আমরা জেনেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরার সংকট রয়েছে এবং একটি গ্যারেজ নির্মাণের প্রয়োজন আছে। বিষয়গুলো বিধি মোতাবেক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
ক্রমাগত যানবাহন চুরির ঘটনায় হাসপাতাল প্রাঙ্গনে নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।