
জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাট শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসবের সময় নবজাতককে টেনে বের করার চেষ্টা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা মোস্তাফিজুর রহমান কাজলের অভিযোগ, স্বাভাবিক প্রসব করানোর সময় চিকিৎসক ও নার্সসহ চার-পাঁচজন তাঁর স্ত্রীর হাত-পা চেপে ধরে শিশুটিকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন। এতে নবজাতকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়। জন্মের কিছুক্ষণ পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জনের কার্যালয়। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও শিশুটির বাবা মোস্তাফিজুর রহমান কাজল এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন।
অভিযোগপত্রে মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, গাইনি চিকিৎসক নূর-উন নাহার নাজমীর পরামর্শে গত ৩ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে প্রসবের জন্য তাঁর স্ত্রী মোছা. রহিমা খাতুনকে জয়পুর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী দীর্ঘ সময় প্রসববেদনায় কাতর ছিলেন। এ সময় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করার জন্য চিকিৎসককে বারবার অনুরোধ করা হলেও তা না করে চিকিৎসক ও নার্সরা স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা চলে। একপর্যায়ে চিকিৎসক ও নার্সসহ চার-পাঁচজন তাঁর স্ত্রীর হাত-পা চেপে ধরে শিশুটিকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়। পরে শিশুটির জন্ম হলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মোস্তাফিজুর রহমান কাজল বলেন, ‘চিকিৎসকের অবহেলার কারণে আমার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রোববার দুপুরে জয়পুর ক্লিনিকে গিয়ে ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনাটি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ৪০০ শয্যার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারককে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন একই হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডা. নাসিমা আক্তার নীনা এবং ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু, গাইনি) ডা. মোর্শেদা খাতুন স্বপ্না।
জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’