
পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
ধান উৎপাদনের সূতিকাগার দেশের উত্তরের জনপদ বরেন্দ্র অধ্যুষিত নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় মাঠে মাঠে চলছে ইরি-বোরো ধান চাষাবাদের ধুম।মাঘের সকালে কুয়াশার চাদর আর কনকনে হিমশীতল হাওয়া চারিদিকে বীজতলায় চারা উঠানো ও জমিতে রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক শ্রমিকরা। বাড়িতে বাড়িতে কৃষানীদেরও বেড়েছে ব্যস্ততা। বোরো চাষে কমড় বেধে নেমেছে পত্নীতলার কৃষক কূল।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৯ হাজার ৫ শ ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবার প্রণোদনার আওতায় ১ হাজার ৬ শ জন প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ডি.এ.পি-১০কেজি,এম.ও.পি-১০ কেজি ও ধানবীজ-৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ,উঠান বৈঠক,মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এবার উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-৮৮,৮৯ ৯০,৯২,১০০ ও স্থানীয় জিরা জাতের বোরো ধান রোপণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়,বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিক ও কৃষকেরা। কেউ জমিতে মই দিচ্ছে,কেউ চারা তুলে দিচ্ছে,কেউ রোপণ করছেন।বোরো ধান রোপণ চুক্তিতে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৫ শ টাকা করে নিচ্ছে কৃষি শ্রমিকরা।
উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর গ্রামের কৃষক মো.ইয়াকুব আলী বলেন,তিনি এবার প্রায় ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন।গত বছরের তুলনায় কৃষিশ্রমিক অনেক সঙ্কট। জমি চাষ, সেচ মূল্য, সার সব মিলিয়ে বোরো ধান রোপণের খরচও এ বছর বেশি।
কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো.সোহরাব হোসেন বলেন,এ পর্যন্ত উপজেলায় ১৫ শতাংশ বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারীর ২য় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। অধিক ফলনের জন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছে।