
ডেস্ক রিপোর্টঃ
নওগাঁয় জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলন দাবি করা হয়েছে, দাঁড়িপাল্লার কর্মী-সমর্থক ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন বিএনপি প্রার্থীর লোকজন। জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধর করছেন বিএনপির লোকজন।
জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আজ সোমবার দুপুরে নওগাঁ পৌর জামায়াতের কার্যালয় শহরের দয়ালের মোড়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মহিউদ্দিন আহমেদ। নওগাঁর ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আহ্বায়ক।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার এসেছে। এই জোয়ার সহ্য করতে না পেরে আমাদের কর্মীদের প্রচারে প্রনিনিয়ত বাধা-বিঘœ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি প্রার্থীকেও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কর্মীদের ওপর আঘাত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গতকাল নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েমের কর্মীরা হাঁসাইগাড়ী এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিল। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাঁদের প্রচারে বাধা দেয়। নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে মান্দা উপজেলার কুশুম্বা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সদস্য মুশফিকুর রহমানকে (৬৫) মারধর করে জামায়াতের লোকজন। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের গোপাই এলাকায় প্রচারণা চালানোর সময় জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলাও হয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নওগাঁর ছয়টি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। এই জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন যাতে না হয় সেজন্য ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এখন থেকেই জামায়াতের কর্মী-সমর্থক হিসেবে পরিচিত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে আমার খবর পাচ্ছি। কালো টাকার ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘জনগণের রায় যেন সঠিকভাবে প্রতিফলিত হলে জামায়াতের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। সেজন্য সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের পরিবেশ থাকতে হবে। সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন, সরকারসহ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থাকা সকল পক্ষকে যথাযথ করার দাবি জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে নওগাঁর ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের যুগ্ন আহ্বায়ক ওবায়দুল হক, কাজী আতিকুর রহমান, রেজাউর রহমান, ডা. মো. আবু সাঈদ, ইমরুল আখিয়ার পরাগ ও নুরুজ্জামান শেখ উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য কাজ করছে, সুতরাং কোনো প্রার্থীর কর্মী-সমর্থককে মারধর কিংবা হুমকি-ধামকির অভিযোগ সত্য নয়।
বরং জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির কর্মীদের মারধর করেছে। আমাদের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থীরা ভোটে হেরে যাওয়ার ভয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’